রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনে চুরি ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে একজন ওই অধিদপ্তরের কর্মচারী বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১ মে) ভোরে এক দুষ্কৃতিকারী বোরকা পরে অধিদপ্তরের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে স্টোর রুম থেকে ল্যাপটপ চুরি করে এবং পরে সেখানে আগুন লাগিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন শনিবার (২ মে) দুপুরে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পরে একই দিন রাতে অভিযান চালিয়ে আসমাউল ইসলাম (৩০), জিন্নাত আলী বিশ্বাস (৫৫) ও হুমায়ুন কবির খান (৫৯) নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর মধ্যে আসমাউল ইসলাম অধিদপ্তরের পরিচ্ছন্নকর্মী (মাস্টার রোল) হিসেবে কর্মরত।
মিরপুর মডেল থানা সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ২টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে মিরপুর-২ এলাকায় অবস্থিত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের দ্বিতীয় তলার স্টোর রুমে আগুন লাগানো হয়। এতে ৭৩৫টি ল্যাপটপের মধ্যে ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়, ২৯টি গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত, ৩৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৪৫০টি অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এছাড়া ৮৩টি ল্যাপটপ নিখোঁজ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মিরপুর-২ এলাকা থেকে আসমাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেই স্টোর রুমে আগুন লাগানোর কথা স্বীকার করেন।
তার দেওয়া তথ্য ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামি জিন্নাত আলী বিশ্বাস ও হুমায়ুন কবির খানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।