1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

গ্রেপ্তার আতঙ্কে ৮৪ কর্মকর্তা, চলমান অভিযানে ১৫ জন এবং বাকিদের ৬ মাসের মধ্যে আটকের সম্ভাবনা

নিজেস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫
  • ৩৩১ বার পঠিত

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর ৮৪ কর্মকর্তা গ্রেপ্তার আতঙ্কে সময় পার করছেন। এসব পুলিশ কর্মকর্তারা কোন ভাবেই কাজে মন বসাতে পারছেন না। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় ঢাকাসহ সারা দেশে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী, এমপি, নেতাকর্মী ও আমলাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুলিশের সাবেক আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। সাবেক আইজিপিসহ ৩৩ জন পুলিশকর্তাকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার এবং নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। আসামিদের কেউ কেউ দেশের বাইরে আছেন। কেউ আছেন আত্মগোপনে অথবা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন অন্তত ২০২ জনের মতো পুলিশ সদস্য।

সম্প্রতি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ অনলাইনে সরকারের বিরুদ্ধে পুলিশকে উসকানি দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশের ৮৪ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করতে একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তালিকাটির বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের অনুমতি নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। তালিকায় সাবেক আইজিপি, অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার ও ইন্সপেক্টর রয়েছেন বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছেন। পলাতক কর্মকর্তাদেরকে ধরতে নোটিশ যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলে।

পুলিশের কাজের গতি বাড়াতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের অনেকের বিরুদ্ধেই হত্যাসহ নানা অভিযোগে মামলা হয়েছে। যারা কর্মস্থলে উপস্থিত হননি তাদেরও তালিকা করা হয়েছে। বেশ কিছু কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের নির্দিষ্ট সময় পর বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেশ কিছু কর্মকর্তা দেশের বাইরে চলে গেছেন। এখন পর্যন্ত সাবেক দুই আইজিপিসহ ৩৩ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে কী কী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তার বিবরণ দিয়েছেন গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তারা। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা বৈঠকে কী বিষয়ে আলোচনা করেছেন সে তথ্যও দিয়েছেন আটককৃত পুলিশ কর্মকর্তারা।

সরকারের কাছে তথ্য রয়েছে, পলাতক ও অন্য পুলিশ কর্মকর্তারা সরকারের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। সিদ্ধান্ত হয়েছে, আন্দোলনের সময় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছেন এবং দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন তাদের আইনের আওতায় আনতে। পুলিশ সদর দপ্তর চূড়ান্ত একটি তালিকা করেছেন। এতে ৮৪ জনের নাম এসেছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আছেন আত্মগোপনে, কেউ আছেন দেশের বাইরে আবার কেউ দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। পুলিশ সূত্র বলছে এরই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার রাতে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানকে পুলিশ হেফাজতে, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মোল‍্যা নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ শহিদুল্লাহকে গ্রেপ্তার, কুমিল্লা ও সিলেটের সাবেক পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান এবং বাগেরহাটের সাবেক পুলিশ সুপার আবুল হাসনাতকে আটক করেছেন পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত ডিআইজি মোল‍্যা নজরুল ইসলাম গাজীপুর মেট্রোপলিটনের সাবেক কমিশনার ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন। তার বিরুদ্ধে খুন-গুমসহ অনৈতিক শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত বাগেরহাটের এসপি থাকাকালে ২০২৪ সালের নির্বাচন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন। পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান কুমিল্লা ও সিলেটে দায়িত্ব পালনকালে নির্বাচন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শক্তি প্রয়োগ করেন। এছাড়াও সিটিটিসিতে পুলিশ সুপার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজানোর একাধিক অভিযোগ রয়েছে।নোয়াখালীর সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান নির্বাচন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শক্তি প্রয়োগ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি ব্যাপক সমালোচিত। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পর তার বিরুদ্ধে মামলা হয়।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ডিআইজি জানান, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে যেসব পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যরা বল প্রয়োগ করেছেন তাদের একটি তালিকা করা হয়েছে। তালিকার ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। চলমান অভিযানের সময় অন্তত ১৫ জন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করার সম্ভাবনা আছে। বাকিদের ছয় মাসের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে। শুক্রবার রাতে দুজন ডিআইজি ও তিনজন পুলিশ সুপারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক সদস্যদের ধরতে সহযোগিতা চেয়ে ইন্টারপোলে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কয়েকজন দেশের বাইরে চলে গেছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।

পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের পর এখন পর্যন্ত পুলিশের ২৫ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। সিআইডির সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাহবুবুর রহমান, মো. আতিকুল ইসলাম, ডিআইজি মো. আব্দুল বাতেন, অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণ পদ রায়, খন্দকার লুৎফুল কবির ও মীর রেজাউল আলম, ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র, মো. আসাদুজ্জামান, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মোজাম্মেল হক, সরদার রকিবুল ইসলাম ও মো. ইমাম হোসেন এবং অ্যাডিশনাল ডিআইজি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবির তাদের মধ্যে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

তালিকায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) থেকে শুরু করে মহানগর পুলিশ কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, উপ-কমিশনার, সহকারী কমিশনার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা রয়েছেন। ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টর, সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর ও কনস্টেবলদেরও আসামি করা হয়েছে। চূড়ান্ত তালিকায় সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক গোয়েন্দা প্রধান (ডিবি) হারুন-অর রশীদ, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার, অ্যাডিশনাল ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক সিআইডি প্রধান মোহাম্মদ আলী মিয়া, পিবিআইয়ের সাবেক প্রধান বনজ কুমার মজুমদার, র‌্যাবের সাবেক ডিজি এম খুরশিদ হোসেন, র‌্যাবের সাবেক ডিজি ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ, ডিএমপির সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আক্তার, সিটিটিসির সাবেক ডিআইজি আসাদুজ্জামানসহ কয়েকটি জেলার পুলিশ সুপার রয়েছেন। যশোর, গোপালগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও জেলায় আন্দোলনের সময় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে পুলিশের একটি গোপন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর