নওগাঁয় সংঘটিত একটি ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে একটি ট্রাকে করে ২৫০ বস্তা (প্রায় ৫০০ মণ) ধান নিয়ে নওগাঁর উদ্দেশ্যে রওনা দেন চালক মারুফ ও তার সহকারী শামীম। পরদিন ২৩ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ১টা ৪৫ মিনিটে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানা কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া এলাকায় পৌঁছালে একটি ডাকাত দল পেছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে তাদের পথরোধ করে।
ডাকাতরা ধানবোঝাই ট্রাকটির গ্লাস ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ট্রাকসহ ধান লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা নম্বর-৩৯ (তারিখ: ২৩/০১/২০২৬ খ্রি.), ধারা ৩৯৫/৩৯৭ পেনাল কোডে একটি মামলা রুজু করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত ও বিশেষ অভিযান শুরু করে। এক পর্যায়ে তথ্য পাওয়া যায় যে, বগুড়ার শিবগঞ্জ থানাধীন মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে গিয়ে আটককৃত মোঃ আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০)–কে জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করে নিশ্চিত হয় যে, তিনি ও তার সহযোগীরা এই ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তাকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত গোলাপ (২৪) ও লাভলু (২৮)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।
আটককৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত চক্রের সর্দার মোঃ সামিউল ইসলামকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হলে তিনি পালিয়ে যান। তবে তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতিতে ব্যবহৃত ট্রাকের কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়।
এরপর ঢাকার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাত—মোঃ রাকিব হোসেন শরীফ (২৭), মোঃ রফিকুল ইসলাম অপু (৩১) এবং মোঃ সাজিদুল ইসলাম সবুজ (২৩)–কে গ্রেপ্তার করা হয়।
টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে এ ঘটনায় মোট ৬ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক (বগুড়া-ঢ ১১-১৯৮১) জব্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, পলাতক ডাকাতদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নওগাঁকে অপরাধমুক্ত রাখতে জেলা পুলিশের এমন তৎপরতা আগামীতেও চলমান থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।