নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক ছাত্রদল নেতার পৈতৃক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে থানার লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার করেছে যৌথ বাহিনী। এ সময় অন্তত পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চল কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের কদমীরচর এলাকায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম।
পুলিশ জানায়, কালাপাহাড়িয়ার কদমীরচর এলাকার কাশেম আলীর পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয় এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কাশেম আলী আড়াইহাজার উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের পিতা। মোবারক নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এক সংসদ সদস্য প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবেও পরিচিত।
অভিযান শেষে বিকেলে খালিয়ার চর জাহানারা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এলাকায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ১৪০ জন সেনাসদস্য ও ১০ জন পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— কালাপাহাড়িয়ার খালিয়ার চরের এরশাদের ছেলে মো. জাকির (৩০), কানাই মিয়ার ছেলে মো. জনি (১৯), প্রয়াত হযরত আলীর ছেলে মো. স্বপন (৪০), শামসুল হক ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল মতিন (৪৫) এবং শুকুর আলীর ছেলে রিন্টু মিয়া (৫১)।
যৌথ বাহিনী জানায়, অভিযানে গত বছরের গণঅভ্যুত্থানের সময় আড়াইহাজার থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি এবং ৫টি শটগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও আটটি ককটেল, বিপুল পরিমাণ দেশীয় তৈরি ধারালো অস্ত্র, চায়নিজ কুড়াল, একটি ইলেকট্রিক শটগান, মাদকদ্রব্য, নগদ ১০ লাখ টাকা ও একাধিক মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল যোবায়ের আলম সাংবাদিকদের বলেন, কালাপাহাড়িয়া এলাকা চারদিক থেকে নদী দ্বারা বেষ্টিত হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ধরে অপরাধপ্রবণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে এখানে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক মজুদের তথ্য পাওয়া যায় বলেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনীর প্রায় ১৫০ সদস্য এলাকাটির নদীপথ, বহির্গমন পথ ও বসতবাড়ি ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালায়। এর ফলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারসহ অপরাধীদের আশ্রয়স্থল শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
এই অভিযানের ফলে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।