কুমিল্লায় পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ওসির যোগসাজগে পুরনো কর্মস্থলে অবস্থান করার তথ্য এসেছে টাইমস নিউজের হাতে। এসআই এনামুল হক ২০১৩- ২০১৫ খ্রিঃ সাল পর্যন্ত দীর্ঘদিন দাউদকান্দি মডেল থানাধীন গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত ছিলেন। সেখান থেকে তৎকালিন সময়ে অভিযোগের ভিত্তিতে ঢাকা রেঞ্জে বদলি হন তিনি। কিন্তু রহস্যময়ভাবে তিনি সেখান থেকে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও জড়িয়ে পড়েন নানান ধরণের অপরাধে। ফলে আবারও তাকে অভিযোগের ভিত্তিতে বদলি করা হয় নৌ-পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে। তারপর পুলিশের হেডকোয়ার্টার এর নির্দেশে কুমিল্লা জেলা ব্যতীত অন্য জেলায় বদলি হতে পারবে মর্মে তাকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি করা হয়। পরে তিনি নামমাত্র লক্ষীপুর জেলায় বদলি হলেও রহস্যজনকভাবে ১ মাসের ব্যবধানে তৎকালিন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোজাম্মেল (বর্তমান কর্মস্থল দাউদকান্দির পার্শ্ববর্তী চাঁদপুরের একটি নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে) এর ইচ্ছেতে ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজিকে হাত করে আবারও বদলি হন কুমিল্লায়। এরপর ২০২৩ সালের শেষ দিকে তৎকালিন পুলিশ সুপার আব্দল মান্নানকে ম্যানেজ করতে সরাসরি ওসি মোজাম্মেল তদবির করেন তাকে দাউদকান্দি মডেল থানায় বদলির জন্য। পরে তিনি সে সময় আবারও যোগ দেন পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দি মডেল থানায়। এখানে উল্লেখ যে, ওসি মোজাম্মেল যখন চট্টগ্রাম জেলার শীতাকুন্ড থানার তদন্ত ইন্সপেক্টে, তখন সে সময়ের চট্টগ্রাম জেলার এসপি ছিলেন নুরে আলম মিনা। সময়ের ব্যবধানে ২০২৩ সালে যখন আলম মিনা চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে যোগদান করেন তখনি ওসি মোজাম্মেল বিপুল পরিমাণ ঘুষ দিয়ে চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি হয়ে বাগিয়ে নেন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসির চেয়ারটি। এরপর ওসি মোজাম্মেল পুলিশ বাহিনীর আড়ালে গড়ে তুলেন অপরাধের সাম্রাজ্য। আর এই অপরাধ সাম্রাজ্যের সিন্ডিকেট বাহিনীতে ছিলেন ওসি মোজাম্মেল, এসআই এনামুল, এসআই সাইদুল ইসলাম, থানার কথিত ক্যাশিয়ার (কনস্টেবল মোঃ আলী আক্কাস, এসআই আশরাফুল ইসলাম, এসআই সরোয়ার হোসেন, এসআই গোবিন্দ চন্দ্র দাস, এসআই সঞ্জয় কুমার মজুমদার, এসআই আলমগীর) অন্যতম। তাদের নানা ধরনের দুর্নীতি আর অপকর্মের সামান্যতম দিক তুলে ধরা হয়েছিলো জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের আগে (১৩ জুন ও ২৪ জুন)। তারই পেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ২৪/০৬/২০২৪ তারিখের স্মারক নম্বর- ৪৪.০১.০০০০.০৩০.৪৮.০১২.২৪/২৬০৬, ২৭/০৬/২০২৪ তারিখে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের স্বারক নম্বর- ৯৩৬/জি এবং ২৯/০৬/২০২৪ তারিখে কুমিল্লার পুলিশ সুপারের স্বারক নম্বর- ৪১৭১/এম এর পেক্ষিতে সহকারী পুলিশ সুপার, দাউদকান্দি
সার্কেলকে ৩০ জুন-২৪ তারিখে পুলিশ সাদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিক অনুসন্ধানপূর্বক ২১ কার্য দিবসের মধ্যে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে সময় ২০২৪ এর জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনায় সেই প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি কর্তৃপক্ষ। যাইহোক জুলাই-আগষ্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর অপরাধ সাম্রাজ্যের সিন্ডিকেট বাহিনীটির সবার বদলি হলেও এখনো বহাল তবিয়তে আছেন এসআই এনামুল হক ও এসআই সাইদুল ইসলাম। অবশ্য গত ০৯ অক্টোবর- ২০২৪ তারিখে কুমিল্লার পুলিশ সুপার একটি বদলির আদেশ দেন। সেই আদেশে এসআই এনামুলকে দাউদকান্দি মডেল থানা থেকে লালমাই থানাধীন ভুচ্চি পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি করা হয়। বদলির আদেশ ৩ মাস অতিবাহিত হতে চললেও তিনি এখনো পুরনো কর্মস্থল দাউদকান্দি ছাড়েননি। এ বিষয়ে জানতে অবশ্য পুলিশ সুপারের বদলির আদেশকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে বহাল তবিয়তে থাকা এসআই এনামুলের পক্ষে সাফাই গেয়ে অহেতুক যুক্তি দিতে চেষ্টা করেছেন ওসি জুনায়েত চৌধুরী। অন্যদিকে অভ্যুত্থানের পর সেই থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন জুনায়েত চৌধুরী। অবশ্য তিনি তার কর্মজীবনে কখনো ওসির দায়িত্ব পালন না করায় দাউদকান্দির মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি মডেল থানায় তার পদায়নের বিষয়টি নিয়ে রয়েছে নানান ধরণের আলোচনা- সমালোচনা। যাইহোক ওসি জুনায়েত চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং এসআই এনামুলের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া হওয়ায় এবং এসআই সাইদুল ইসলাম দাউদকান্দি মডেল থানাধীন গৌরিপুর পুলিশ ফাঁড়িতে দীর্ঘদিন থেকে নিরাপদে নানান ধরণের অপরাধ সংগঠিত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে বেশ সখ্যতা। যাইহোক বর্তমান সময়ে স্থানীয় কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে মিলিত হয়ে তাদের সবার বিরুদ্ধে রয়েছে সাধারণ মানুষকে হয়রানী, মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, ঘুষ কেলেঙ্কারীসহ নানান ধরণের গুরুতর অপকর্ম। সে সব বিষয়ে আমরা পরবর্তী অনুসন্ধানী নিউজে প্রকাশ করবো।