কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সাতবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক বাবা আলতাফ আলীর ঘরে ১৯৫৫ সালে জম্মগ্রহন করেন বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: আক্তারুজ্জামান। মা রজ্জবের নেছা ছিলেন গৃহিনী। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে জীবনের মায়া ভুলে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য নিজ পৈতৃক জম্মস্থান সাতবাড়ীয়া থেকে বাবা মা’কে না জানিয়ে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার্থে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন গেজেট ভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৮২ সালে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান তৎকালীণ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কুমিল্লা জেলার নেতা মাস্টার আব্দুর রব ও কুমিল্লা জেলা জামায়াত নেতা চৌয়ারা কলেজের অধ্যাপক হাবীবুর রহমানের হাতে হাত রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে সদস্য হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চৌদ্দগ্রাম থানা কমিটির নাজেম হিসেবে শপথ পাঠ করান কুমিল্লা জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক হাবীবুর রহমান। ইসলামী আন্দোলন বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে জামায়াতে ইসলামীর দাওয়াত পৌঁছে দেন সাতবাড়িয়া গ্রামের কৃতি সন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। ১৯৮৬ সালে রুকনত্ব লাভ করার পর তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর হিসেবে ১৯৮৭ থেকে ১৯৯৪সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান রাজনীতির পাশাপাশি কৃষি বিভাগেও চাকরি করেছেন। ইসলামী আন্দোলনের কাজ করতে গিয়ে আক্তারুজ্জামানের উপর অতর্কিত হামলা চালায় বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপজেলা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৯০ দশকের পর জামায়াত নেতা আক্তারুজ্জামানকে মুজিবুল হক দল ত্যাগ করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগে যোগদান করার নির্দেশ দিলেও তা প্রত্যাক্ষান করেন তৎকালিন চৌদ্দগ্রাম থানা আমীর আক্তারুজ্জামান। এতে শুরু হয় গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধার প্রতি আওয়ামী সন্ত্রাসী মুজিবুল হকের অমানবিক আচারণ ও নির্যাতন। চৌদ্দগ্রাম ত্যাগ করতে বাধ্য করেন তৎকালিন হুইপ মুজিবুল হক। জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা ছুটে আসেন কুমিল্লায়। এরপর ১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা জেলা’র অফিস সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রবীণ এই নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ বহুবার নির্যাতন চালালেও দমন করতে পারেননি। আওয়ামীলীগ কর্তৃক বহু নির্যাতন জুলম এর বিষয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদককে বলেন- আওয়ামী ফ্যাষ্টিদের নির্যাতনের কারনে চৌদ্দগ্রামের পৈতৃক বাড়িতে থাকতে পারিনি। বিগত ১৫ বছর বীরমুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা ছাড়া কোন প্রকার রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহন করতে পারিনি। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এর একনিষ্ঠ কর্মী হওয়ায় ২০১৮ সালের ১৩ আগষ্টে চৌদ্দগ্রাম উপজেলাধীন সাতবাড়ীয়া গ্রামে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠানিক প্রোগ্রাম শেষ করে নিজ পৈতৃক বাড়িতে সকালের নাস্তা করার সময় শত শত জনগণের সামনে তৎকালীণ রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক ও কাশিনগর ইউনিয়নের মোশারেফ চেয়ারম্যানের নির্দেশে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) আওয়ামী দোসর আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফের নির্দেশে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানকে হাতকড়া লাগিয়ে টেনে হেঁচড়ে গাড়িতে উঠানো হয়। বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান যখন ওসি আবুল ফয়সাল ও এসআই আরিফকে তাহার আটকের ওয়ারেন্ট আছে কিনা জানতে চাইলে প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধাকে পুলিশ কোন কথার উত্তর না দিয়ে গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান (৬৫) ও তাহার বাড়ির চাচা বৃদ্ধ ফজর আলী (৮০) সহ ৮/১০জনকে প্রিজন পুলিশের ভ্যানে চৌদ্দগ্রাম থানায় নিয়ে আটক রাখেন। রাতে থানায় শুরু হয় প্রবীণ বীরমুক্তিযোদ্ধার উপর অমানবিক টর্চার নির্যাতন। তৎকালিন রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হকের নির্দেশে একদিন পর থানায় একাধিক মামলা হয় বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের নামে। জামায়াত নেতা বীরমুক্তিযোদ্ধার এক হাতে ২ জনের হাতকড়া লাগিয়ে থানায় আটক পূর্বক মামলার রের্কড করা হয় বলে অভিযোগ করেন গেজেটভুক্ত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান। বীরমুক্তিযোদ্ধা প্রতিবেদককে আরো বলেন- স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার আমাকে অহেতুক কয়েকটি মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখেন। কারাগারে দীর্ঘদিন আটক রাখার পর অসুস্থ অবস্থায় ৩ দিনের রিমান্ডে এনে চৌদ্দগ্রাম থানায় অমানবিক নির্যাতন চালান এসআই আরিফ। আমাকে হাতকড়া লাগিয়ে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে রিমান্ডে নিয়ে আসে এসআই আরিফ। এমনকি হাতকড়া না খুলে আমাকে থানার ২য় তলায় এসআইয়ের থাকার ব্যারাকে নিয়ে বেধম ভাবে মানসিক নির্যাতন চালান। জি: আর মামলা নং- ৩০৭/১৮,৪১৩/১৮ সহ একাধিক গায়েবী মামলা করা হয়। রিমান্ডের নামে কয়েকবার জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আমাকে কুমিল্লা কারাগার থেকে চৌদ্দগ্রাম থানায় আনা নেওয়া করা হয় যাহা সম্পূর্ণ বেআইনী। এদিকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার প্রমোদ প্রতিবেদককে বলেন- বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামান কে অন্যায় ভাবে সাবেক রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক আটক করিয়েছেন। সংগত কারণে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের গ্রেফতারের সময় বিবৃতি প্রদান করতে পারেনি কোন মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন। এ বিষয়ে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুমিল্লা জেলার সমন্বয়ক রুবেল হোসাইন জানান- জামায়াত করার অপরাধে বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের হাতে বিনা ওয়ারেন্টে হাতকড়া লাগান এসআই আরিফ। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। একজন খুনি মুক্তিযোদ্ধা কানুর জন্য প্রতিবাদ ও সংবাদ দেখেছি কিন্তু বীরমুক্তিযোদ্ধা জামায়াত নেতার হাতে হাতকড়া লাগিয়ে চৌদ্দগ্রাম পুলিশ টেনেছে এই চিত্র আমাদের চোঁখে এসেছে। কোন বীরমুক্তিযোদ্ধাকে রিমান্ডে হাতকড়া লাগিয়ে আনার যৌক্তিকতা আছে কিনা তা এখন জানার বিষয়। জানতে পেরেছি যে, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্তারুজ্জামানের হাতে হাতকড়া লাগানোর প্রতিবাদ জানিয়ে ছিলেন।