রাজশাহীর পবা উপজেলায় ‘মব’ তৈরি করে পুলিশের কাছ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসামির কাছে হাতকড়ার চাবি পাঠিয়ে সেটি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের দাবি। যদিও পুলিশ চাবি পাঠিয়ে হাতকড়া উদ্ধারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আসামি ছিনতাইয়ের এ ঘটনায় পরে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত রোববার (২২ মার্চ) বিকেলে পবা উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পবা থানা পুলিশ উপজেলার পিল্লাপাড়া মোড়ে মো. রাসেল নামের এক যুবককে গ্রেফতার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১৫ মার্চ আফসার আলী নামের এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ ওঠে মো. রাসেল নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় রাসেলকে গ্রেপ্তার করতে যায় পবা থানা পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রোববার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে পিল্লাপাড়া মোড়ের সাহিদা হক ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে পবা থানা পুলিশের আট সদস্যের একটি দল রাসেলকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় আসামির মা, কয়েকজন স্বজন ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে ‘মব’ তৈরি করেন। একপর্যায়ে হাতকড়া পরা অবস্থাতেই রাসেলকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার পর হাতকড়া উদ্ধারে পুলিশ ব্যাকুল হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় কয়েকজনের মধ্যস্থতায় প্রায় দুই ঘণ্টা পর হাতকড়াটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, পুলিশ কয়েকজনকে হাতকড়ার চাবি দেয় এবং তারা এলাকার একটি বিলের মধ্যে গিয়ে রাসেলের কাছ থেকে হাতকড়া খুলে নিয়ে এসে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম ডেইলি টাইমস নিউজকে জানান, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে চাবি পাঠিয়ে হাতকড়া উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য না করে বিস্তারিত তথ্যের জন্য পুলিশ মিডিয়া শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, হ্যান্ডকাপ উদ্ধার হয়েছে, তবে চাবি পাঠিয়ে হ্যান্ডকাপ উদ্ধারের বিষয়টি সঠিক না। আর আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। গ্রেফতার তিনজনের মধ্যে ছিনিয়ে নেওয়া আসামি রাসেল আছেন কি না তা নিশ্চিত করতে পারেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।