আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে যাওয়া এমন দুজন ব্যক্তি মধ্যে একজন হলেন পুলিশ কনস্টেবল (গাড়ি চালক) আজিজুর রহমান। সে ঝালকাঠি জেলাধীন কাঁঠালিয়ার পশ্চিম আউরা এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। বর্তমান কর্মস্থল ঢাকার দারুস সালাম থানায় হলেও তিনি থাকেন ৯ এপিবিএন হেডকোয়ার্টার উত্তরায়। অন্যদিকে কনস্টেবল ওমার ফারুকের বর্তমান কর্মস্থল ঢাকা কোর্ট বিচারকের গানম্যান হিসেবে থাকলেও তিনি থাকেন দক্ষিণ খান মোল্লাবাড়ি উত্তরায়। তিনি নরসিংদী জেলাধীন রায়পুরার বড়চর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে বলে জানা যায়। পেশায় পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে একজন গাড়ি চালক অন্য জন বিচারকের গানম্যান হলেও পিছনে ফিরে থাকাতে হয়নি তাদেরকে চাকরি জীবনে। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের বিশেষ কোটায় চাকুরীতে যোগদান করে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলকে ব্যবহারের মাধ্যমে তারা গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। উত্তরখান থানার ওসিকে ব্যবহার করে আইনের মারপেঁচে ফেলে হাতিয়ে নিয়েছেন প্রবাসী মহিলার জমি জমা, বসত ভিটা সহ ৩য় তলা ভবন। কনস্টেবল আজিজুর রহমান, বড় বোন নিলোফা ইয়াসমিন, ও ভগ্নিপতি আওলাদ হোসেন মিলে জীবনাশের হুমকি দিয়ে ২ কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে নেন ৬৮ লাখ টাকার বকেয়া চেক ও ২ লাখ টাকার স্টাম্প মূলে। পরবর্তী উত্তরখান থানা আওয়ামী কৃষক লীগের অফিসে আঁটকে রেখে ওসিকে ব্যবহার করে আজিজুর রহমান বিক্রয় নামা দলিল করে নেয়। সম্পাদনের তারিখ ২৩/১১/২১ দলিল নং ৮৫৯৪, জমির পরিমান ০৫ কাঠা, স্ট্যাম্পে যার মূল্য ধরা হয় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। পুলিশ কনস্টেবল হয়ে র্যাব, এপিবিএনে চাকরি করার সুবাদে প্রশাসনিক পরিচয় থাকায় বিভিন্ন ডিপার্ট্মেন্টের অফিসারদের ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ আদায় করতে দ্বিধাবোধ করেনি আজিজুর। দারুস সালাম থানার গাড়ি চালক হলেও স্থপরিবারে থাকেন ৯ম এপিবিএন হেডকোয়ার্টার উত্তরার কোয়ার্টারে। যা সু-স্পষ্ট চাকুরীর বিধান অমান্য। উত্তরখানের ৪০২/২ টেকপাড়া দোবাদিয়ায় অবৈধভাবে দখল করা প্রবাসীর বাড়িতে ১ম ফ্লোরে বোন ও ভগ্নিপতিকে রেখে ২য় ও ৩য় তলায় ফ্যামিলি বাসা ভাড়া দেন আজিজ। দক্ষিণখানের আয়েশ উদ্দিন মোল্লার বাড়ি বাসা নং- ৩, দলিল নং- ৮৯২৪ সম্পাদনের তারিখ ০৩/১০/২০২৩ জমির পরিমান ২.২৫ কাঠা, মুল্য ৫৯,০০,০০০/- টাকা, যা প্রবাসী রানী বেগমের ক্রয়কৃত সম্পত্তি। পাওনা টাকা তুলে দেওয়ার কথা বলে কনস্টেবল ওমর ফারুক এর মাধ্যমে দুজনেই হাতিয়ে নিয়েছেন এই জমি। স্বপরিবারে দেশের বাহিরে থাকেন রানী বেগম, বছরে দুই একবার দেশে আসেন জায়গা জমি ও স্বজনদের দেখতে। ভুক্তভোগী বলেন, দেশে এসে পুলিশ কনস্টেবল আজিজুর রহমান ও তার বন্ধু গানম্যান ওমর ফারুক পরিকল্পনা করে সর্বত্র লুটপাট করে নিবে কল্পনাও করি নাই। আমার বসভিটা বাড়ি,ও ক্রয়কৃত জমিতে আমাকে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না দুই পুলিশ কনস্টেবল ও তাদের সহযোগি জমি বিক্রেতা মালিকের ছেলে। আমি নিরুপায় হয়ে চীফ জুডিশিয়াল আদালত ঢাকায় মামলা দায়ের করি, মামলা নং ১০৯/২৪ যাহা তদন্ত করার নির্দেশ দেন পিবিআই কে। কিন্তু কনস্টেবল ওমার ফারুক তদন্তকারী কর্মকর্তাকে মেনেজ করে প্রতিবেদন তাদের পক্ষে নেয়। ঐ প্রতিবেদনের উপর অনাস্থা জানালে আদালত পূনরায় তদন্তের জন্য সিআইডিতে হস্তান্তর করেন। স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এরা এতোটাই দাপুটে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে পারতেন না। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর কিছু দিন পালিয়ে থেকে পুনরায় থানার গাড়ি চালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কনস্টেবল আজিজ। দারুস সালাম থানায় যোগদানের পর থেকে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই তিনি মিথ্যা মামলায়/ ছাত্র হত্যা মামলায় জড়িয়ে জেলখানায় পাঠানোর হুমকি দেন। ভুক্তভোগী প্রবাসী রানী বেগম বলেন, এখন সবকিছু হারিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে দিন পার করছি। দেশের প্রচলিত আইনে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিলে আমি আমার সকল সম্পত্তি পুনরায় ফিরে পাবো এমনটাই বলেছিলেন রানী বেগম। প্রবাসীকে আইনের মারপেঁচে ফেলে জায়গা জমি ও অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়ে দারুসসালাম থানার কনস্টেবল আজিজুর রহমান (গাড়ি চালক) এর মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জেনে কল কেটে দেয় তিনি। পরবর্তীতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তী দারুস সালাম থানার ওসির সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আজিজুরের বিরুদ্ধে এর আগেও বেশ কয়েকবার অভিযোগ এসেছে, একবার সাময়িক ভাবে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিল বলেও শুনেছি এরপরও নিজেকে না শোধরালে চাকরী হারাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।