1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

ঢাকার সদর সাব-রেজিস্টার রেকর্ড রুমে শতকোটি টাকার মালিক উমেদার

এমএইচ চৌধুরী
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪
  • ১৬৯ বার পঠিত

ঢাকা সদর রেকর্ড রুমের সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে উমেদার আশরাফের হাত ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড শাখায় নিয়োগবিহীন অবৈধভাবে ফাহিম সিকদার নামে একজন’কে দিয়ে শত কোটি টাকার ঘুষ, দুর্নীতি ও অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন সাব-রেজিস্টার মাহবুবুর রহমান ও উমেদার আশরাফ বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারী চাকুরীর বিধি মোতাবেক কোন কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীরা সরকারের জননিরাপত্তা (গোপনীয়) শাখায় কাউকে প্রবেশ/ ব্যাক্তিগত নিয়োগ সহকারী রাখার বিধান নেই। তবুও সেখানেই একজন উমেদার (কন্ট্রাক্টর) দৈনিক ৬০ টাকা মজুরিওয়ালা রেখেছেন সহকারী। অফিস সহায়ক বা দৈনিক কামলা যিনি লিখেন সরকারি দপ্তরের গোপনীয় চিঠি, প্রতিবেদন। সম্প্রতি সরকারি আমলা ও দূর্নীতিবাজদের বিষয়ে দুদক প্রতিবেদনের তথ্য লিখে আলোচনায় উঠে আসে উমেদার আশরাফ। একজন জেলা রেজিস্ট্রার ও সাব-রেজিস্ট্রার যেখানে গোপনীয় প্রতিবেদন দেওয়ার কথা সেখানে এই জনগুরুত্বপূর্ণ গোপন শাখার প্রতিবেদন লিখলেন রেকর্ড শাখার উমেদার।  বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলার সদর রেকর্ড রুমে সাব- রেজিস্ট্রার অফিসে লিখিত নিয়োগ ছাড়া উমেদার আশরাফ রেখেছেন মোঃ ফাহিম সিকদার নামে একজনকে। সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সদর রেকর্ড রুম সাব-রেজিস্ট্রিার অফিসে এমন অবৈধ নিয়োগ করেন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে। এই বেআইনী নিয়োগ করেন সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম। গোপন সূত্রে জানা যায় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে নিয়োগবিহীন কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া হয়। যেখানে ঢাকা জেলার ২২টি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দলিলের রেকর্ড সংরক্ষিত রয়েছে। সদর রেকর্ড রুমের কর্মচারীর (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) তথ্য মতে জানা যায়, উমেদার আশরাফের ছত্রছায়ায় থাকা ফাহিম সিকদার নিয়ন্ত্রণ করেন অবৈধ দলিল, মোটা অংকে টাকার বিনিময়ে সরকারি রেজিস্ট্রার বালাম থেকে পৃষ্ঠা ছিড়ে ফেলা, রেজিস্ট্রার বালামে জমির পরিমান বাড়ানো সহ নানান দুর্নীতি। অতি সম্প্রতি  গুলশান এলাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বালামের পাতা ছেড়ার জন্য এগারো লক্ষ টাকা কন্ট্রাক্ট হয় উমেদার আশরাফ এর সাথে। এই কাজের দায়িত্ব দেয়া হয় ফাহিম সিকদারকে। গোপন সূত্রে জানা যায়, বালামের পাতা ছেড়া ওভার রাইটিং করা মোবাইল দিয়ে ছবি উঠানো সহ সিসি ক্যামেরার আওতাহীন অতিগোপনীয় ভাবে সে এই অপকর্মগুলো করে যাচ্ছে যা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন আশরাফ। তথ্য অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাবেক জেলা রেজিস্ট্রার অহিদুল ইসলাম মোটা অংকের অর্থের মাধ্যমে মৌখিক ভাবে ফাহিম সিকদারকে নিয়োগ দেন উমেদার হিসেবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় ঘুষ দুর্নীতি অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে দুদক কর্তৃক মামলা হয় এই রেজিস্ট্রারের বিরুদ্ধে। দুদকের দূর্নীতির মামলায় হাজিরা দিতে গেলে কারাবন্ধি হওয়ায় সাসপেন্ড হয় অহিদুল ইসলাম জেলা রেজিস্ট্রার (সাবেক)। তার বিরুদ্ধে এখনো মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা যায়। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড রুমে কিভাবে মৌখিক ভাবে নিয়োগ করা হয়েছে তা নিয়ে কৌতূহল শুরু হয়েছে খোদ রেজিস্ট্রি অফিসেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান গুলশান থানাধীন বনানী আবাসিক এলাকার একটি প্লট দাতা গ্রহীতার নাম পরিবর্তনের জন্য কোটি টাকার কন্ট্রাক্ট নেন উমেদার আশরাফ ও নিয়োগহীন উমেদার ফাহিম সিকদার। বর্তমানে কাজটি কৌশলগত কারণে তাদের কাছে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ফাহিম সিকদার অফিস স্টাফ না হয়েও রেকর্ড রুমের সকল শাখার রেজিস্ট্রার রেকর্ড বই নিয়ে যে কোন অবৈধ কাজ করে সমস্যা না হওয়ায় প্রতিনিয়ত হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঢাকার স্থানীয় শত শত বাসিন্দা। সদর রেকর্ড রুম সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ফাহিম সিকদার ও উমেদার আশরাফের ঘুষ দুর্নীতি, বালামের পাতা ছেড়া, ওভার রাইটিং করা, ইনডেক্স এর পাতা ছেড়া, সরকারি আমানত বিনষ্টকারী অনিয়মের সাথে জড়িত রয়েছে স্বয়ং সাব-রেজিস্ট্রার অফিস গুলোর বিশাল সিন্ডিকেট। অভিযুক্ত উমেদার আশরাফের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ না করাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
একাধিক অনিয়মের বিষয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে সাব-রেজিস্টার (রেকর্ড) মাহাবুবুর রহমানের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী মোবাইল নাম্বারে কথা হলে তিনি বলেন, উমেদার আশরাফ বহিরাগত একজন’কে দিয়ে কাজ করান এটা সত্য। বিষয়টি গোপনীয় শাখার হওয়ায় জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) কে অবহিত করেছি, তবে তিনি কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আপনারা ডিআর স্যারের সাথে কথা বলে দেখতে পারেন এমন মন্তব্য করেন তিনি। জেলা রেজিস্ট্রার (ডিআর) মুন্সী মোখলেছুর রহমানের অফিসিয়াল ও পারসোনাল নাম্বারে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি তার।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর