কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারোপাড়া ইউনিয়নে আবুল বাশার বাদশা নামে এক যুবদল নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় এবং দীর্ঘদিনের চাপ উপেক্ষা করায় তাকে এই নৃশংস হামলার শিকার হতে হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আবুল বাশার বাদশা বারোপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। গত কয়েকদিন ধরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা তাকে ফোনে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন গত ১১ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আবুল বাশার বাদশা বারোপাড়া ইউনিয়নের মেম্বার আনিছুর রহমান খানের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে ওত পেতে থাকা একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। অভিযোগ উঠেছে, হামলাকারীরা জামায়াতে ইসলামের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রথমে বাদশার গাড়ির গতিরোধ করে চালককে মারধর করে। পরে গাড়ির ব্যাকডালা খুলে সঙ্গে আনা দেশীয় অস্ত্র বের করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। একপর্যায়ে তারা ফেসবুক লাইভে এসে দম্ভোক্তি প্রদর্শন করে আবুল বাশার বাদশাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার দুই পা থেঁতলে দেয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে দাউদকান্দি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাদশাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে উদ্ধার কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে গ্রামবাসী জড়ো হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত বাদশাকে উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি ও দুই পায়ের গুরুতর জখম দেখে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগীর পরিবার নৃশংস এই হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”