কুমিল্লায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটকের পর ইউনিয়ন যুবদলের এক নেতার রহস্যজনক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই যুবদলের নেতা কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবি ইউনিয়নের আহ্বায়ক তৌহিদুল ইসলাম। অবশ্য এ ঘটনায় অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক উল্লেখ করে উচ্চপদস্থ তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে এ ঘটনায় সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডারকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সেনা আইন অনুযায়ী যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে পরিচালকের পক্ষে সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আজকে জানানো হয়।
উল্লেখ যে, গত ৩১ জানুয়ারি মধ্য রাত আনুমানিক ৩ ঘটিকাযর সময় সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে তৌহিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরের দিন সকালে পুলিশ ফোন করে জানায়, তৌহিদুল আহত অবস্থায় গোমতী নদীর পাড়ে পড়ে আছে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে সদর হাসপাতাল এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, যৌথ বাহিনীর সদস্যের পরিচয়ে তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান এবং পরদিন সকালে আহত অবস্থায় গোমতী নদীর পাড়ে পাওয়া যায়। তার ভাই আবুল কালাম আজাদ টিপু অভিযোগ করে বলেন, যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তৌহিদুলকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাসুদ পারভেজকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার কোতয়ালী মডেল থানার এসআই মোরশেদ আলম জানান, আমি ওয়ান ডিউটিতে ছিলাম। তখন (আনুমানিক সকাল ১১টা ১৭ মিনিটে) আমাকে ডিউটি অফিসার ঘটনাস্থলে যেতে বললো। আমি তখন (১১টা ৩৫ থেকে ৪০ মিনিটে) গিয়ে দেখি ২০ থেকে ২৫ জন সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিলেন সেখানে। তখন ওনি কতক্ষণ শুয়তেছেন, কতক্ষণ বসে হাঁসফাঁস করতেছেন। এমতাবস্থায় আমি সেনাবাহিনীদের বললাম যে আপনারা চলেন আমার সাথে, ওনাকে তো টিটমেন্ট করতে হবে। তো সেনাবাহিনীরা যাবেন না। তারা বললো আমাদের অভিযান আছে, আমরা যাবো না, আপনি নিয়ে যান। ততক্ষণে তিনি জ্ঞাত হারিয়ে ফেলেন। এসময় আমি ওসি স্যারকে বিষয়টি জানিয়ে ওনাকে তাড়াহুড়া করে সদর হসপিটালে নিয়ে আসি। তার আগে আমি ওনার ফোনটি হাতে পাওয়ার পরে চেক করে ডায়েল নাম্বারে টিপু নামে এক ব্যক্তিকে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে সদর হসপিটালে আসতে বলি এবং তার পরিবারের লোকজনও আসে আর আমরাও (১২টার মধ্যে) হসপিটালে যায়। পরে সদর হসপিটালের চিকিৎসক বললেন কুমিল্লা মেডিকেল হসপিটালে তাড়াতাড়ি নেওয়ার জন্য। ওখান থেকে আমরা তার পরিবারের লোকজনদেরকে সঙ্গে করে ওনাকে নিয়ে গেলে (আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটে) চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, সেনাবাহিনী পুলিশকে সকাল এগারোটায় ফোন দিয়ে জানান, গোমতী নদীর ধারে গোমতী বিলাসে একজন আহত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।