কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী-স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ একই পরিবারের চারজন নিহতের ঘটনায় উল্টো পথে আসা হানিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে জব্দ করেছে পুলিশ। রোববার (২৪ আগস্ট) দুপুরে জেলার দেবিদ্বার উপজেলার খাদঘর মানামা হোটেলের সামনের মাঠ থেকে বাসটি জব্দ করা হয়। বিষয়টি টাইমস নিউজকে নিশ্চিত করেন ময়নামতি হাইওয়ে ক্রসিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার মজুমদার। 
ওসি জানান, গত শুক্রবার দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাসটিকে শনাক্ত করা হয়। সেখানে সিসিটিভিতে দেখা যাচ্ছিল, হানিফ পরিবহনের ঢাকা মেট্টো-ব-১২-২১৯৭ নম্বরের বাসটি উল্টো পথে চলাচল করার কারণেই সিমেন্ট ভর্তি কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেট কারের ওপর উল্টে পড়ে। তারপর ঘটনাস্থলেই ৪জন নিহত হয়। বাসটি জব্দ হলেও চালক বা হেলপার কাউকে পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বাসটিকে দেবিদ্বারের খাদঘর এলাকায় রেখে আত্মগোপনে চলে যান চালক এবং হেলপার। তাদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।
উল্লেখ্য যে, গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার ইউটার্নে হানিফ পরিবহণের একটি বাস হোটেল নুরজাহান থেকে বের হয়ে উল্টো পথে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিমেন্টভর্তি একটি কাভার্ড ভ্যান গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ইউটার্নে থাকা একটি প্রাইভেট কারকে স্ব-জোরে আঘাত করে প্রাইভেট কারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেট কারে থাকা একই পরিবারের চারজন নিহত হন। অন্যদিকে লরির নিচে পড়া সিএনজির তিন যাত্রীও আহত হন। এতে তারা ঢাকা ও কুমিল্লার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 
এদিকে এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহত ওমর আলীর ভাই আবুল কালাম বাদী হয়ে সড়ক পরিবহন আইনে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এতে কাভার্ড ভ্যান ও হানিফ পরিবহন বাসের অজ্ঞাতনামা চালকদের আসামি করা হয়।