জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে নিম্নমানের ষাড় ও বকনা (বাছুর) গরু বিতরনের চেষ্টা করলে স্থানীয়দের তোপের মুখে তা বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। সরকার নির্ধারিত টেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী গরুগুলো না দিয়ে গরিবের হক মেরে করা হচ্ছে বিপুল বাণিজ্য। সমতল ভূমিতে বসবাসরত অনগ্রসর ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক জীবন মানোন্নয়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার সকাল থেকে জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতাল প্রাঙ্গনে প্রাণিসম্পদ দপ্তর সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৫২ জন সুফলভোগীর মাঝে তুষার এন্টার প্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সরবরাহকৃত নিম্নমানের ও বেশকিছু রোগাক্রান্ত সহ ৫২টি ষাড় ও বকনা গরু (বাছুর) বিতরণের জন্য নিয়ে আসে। এ সময় ওই গরুর বাছুর গুলো দেখে ব্যাপক অসন্তোাষ প্রকাশ করে এই সুফলভোগীরা। জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নের সুফলভোগী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাথী বলেন, আমাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমাদের মোটাতাজা গরু দিতে চেয়ে বাছুর দিচ্ছে। সিডিউলে ৮০ কেজি ওজনের গরু দেওয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে বাছুর দিতে এসেছে। ক্ষেতলাল পৌরসভার খলিসা গাড়ি গ্রামের কার্তিক চন্দ্র রবিদাস বলেন, আমি সরকারের পক্ষ থেকে গরু নিতে এসেছি কিন্তু আমাদের গরু দিচ্চে না। এই গরুগুলোর ওজন অনেক কম। উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের জিয়াপুর গ্রামের পূর্নিমা বলেন, আমাদের দেওয়ার কথা মোটাতাজা গরু কিন্তু এখানে দেখলাম সবগুলো বাছুর। আমরা এসব বাছুর নিতে চাইনা, মোটাতাজা গরু হলে আমাদের জন্য সুবিধা হতো। এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। অপর দিকে টেন্ডার সিডিউল অনুযায়ী গরুর বয়স দেড় বছর এবং ওজন ৮০ কেজি থাকতে হবে কিন্তু সরবরাহকৃত গরুর বয়স এক বছরেরও কম, ওজন মাত্র ৪৫ থেকে ৬৫ কেজিরও নিচে এবং নিন্মমানের হওয়ার বিষয়টি আংশিক শিকার করে এই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: পলাশ চন্দ্র রায় বলেন , যে গুরু গুলো তারা সাপ্লাই দিয়েছিল তা আন্ডর রেট। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে আমরা গরু গুলো ফেরৎ পাঠাব। কাউকে কিছু না জানিয়ে নিম্নমানের এসব গরু তরিঘরি করে গোপনে বিতরণের জন্য উপজেলার গণমাধ্যম বা গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকেও অবগত করেনি সংশ্লিষ্টরা। এমন ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগীদের।