কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় কুষ্টিয়া-রাজবাড়ি মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস ও বালুভর্তি ডাম্পট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক তরুণীসহ চারজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার শিমুলিয়া কুটিপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের একটি গভীর পুকুরে উল্টে পড়ে গেলে হতাহতের সংখ্যা বাড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে রাজবাড়ীর পাংশাগামী একটি বালুভর্তি ডাম্পট্রাক (বগুড়া ড ১১-২৭০৩) এবং রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী যাত্রীবাহী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১৩ ০০৯৩) শিমুলিয়া কুটিপাড়া এলাকায় পৌঁছালে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের ভেতর থেকে যাত্রীদের আর্তচিৎকার শোনা যায়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত রশি ও লাঠিসোঁটা নিয়ে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। পরে খোকসা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন।
খোকসা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আলতাফ হোসেন বলেন, পুকুরে উল্টে থাকা বাস থেকে যাত্রীদের বের করতে উদ্ধারকর্মীদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানার ওসি আবু ওবায়েদ জানান, দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে ক্রেনের সাহায্যে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ডাম্পট্রাক সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। দুটি যানবাহনই পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের রাফিয়া (১৭) এবং খোকসা উপজেলার কমলাপুর গ্রামের নাবিল আহাম্মেদ (২৮)। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।
আহতদের কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া গতির ডাম্পট্রাক চলাচল এবং অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সড়ক দুর্ঘটনা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।