কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম জহির হত্যা মামলার প্রধান আসামি ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমদ মেরীর ফ্রেন্ডস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৪২) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন।
জানা গেছে, হত্যা মামলায় প্রায় পাঁচ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফেরেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া। সোমবার (১১ মে) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে মানিককান্দি নামক এলাকায় তিনি হামলার শিকার হন।
স্থানীয়দের দাবি, বিদেশি অস্ত্র নিয়ে জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বসিরের দোকানের সামনে আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন লতিফ ভূঁইয়াকে। এ সময় তার পাশ থেকে একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর বিকেলে মাছ ধরা নিয়ে বিরোধের জেরে একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে পুলিশের উপস্থিতিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই মামলার প্রধান আসামি ছিলেন আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া।
স্থানীয়দের ধারণা, পূর্বের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নিতেই আব্দুল লতিফের ওপর হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুল হক জানান, ট্রিপল নাইন থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় আব্দুল লতিফকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল ও গুলি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।