নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চকমানিক বিলে পানি নিষ্কাশনের পথে অবৈধভাবে বানা (বাঁধ) দিয়ে মাছ চাষের অভিযোগ উঠেছে। খালের পাঁচটি পয়েন্টে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় বিলের প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এ অবস্থায় বানা অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি মানিক, আনেছ, ইউসুফ, আইয়ুব আলী, রুস্তমসহ আরও কয়েকজন মিলে চকমানিক বিলে জোরপূর্বক মাছ চাষ করছেন। বিলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র খালের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আড়াআড়িভাবে বাঁশ ও জালের তৈরি বানা দেওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। ফলে বিলে আবাদ করা প্রায় ২০০ বিঘা জমির পাকা ও আধাপাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
কৃষকদের দাবি, বর্তমানে তারা বাধ্য হয়ে বুকসমান পানিতে নেমে ধান কাটছেন। এতে একদিকে যেমন বাড়তি শ্রমিক খরচ গুনতে হচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদনেও বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
এই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সোমবার (১১ মে) সকালে চকমানিক বিলের পাড়ে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শাহাদাত হোসেন, দেলোয়ার হোসেন, গিয়াস উদ্দিন ও আব্দুর রশিদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, “মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের মাছ চাষের কারণে হাজার হাজার বিঘা জমির ধান নষ্ট হচ্ছে। আমাদের সারা বছরের খোরাকি এখন পানির নিচে।” তারা অবিলম্বে মাছ চাষ বন্ধ এবং পানি নিষ্কাশনের পথ থেকে পাঁচটি বানা দ্রুত অপসারণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মামুন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “পানি আটকে যাওয়ায় কৃষকদের সমস্যা হচ্ছে, এটা ঠিক।” তবে কেন বানা অপসারণ করা হচ্ছে না—এ বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি।
মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে পানি চলাচলের পথে দেওয়া অবৈধ বানাগুলো অপসারণে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”