গ্রীষ্ম মৌসুম শুরু হতেই কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন বাজারে অপরিপক্ব ও কেমিক্যালযুক্ত আম বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মৌসুমের আগেই বাজারে আসা এসব আম চড়া দামে বিক্রি হলেও মান ও স্বাদ নিয়ে হতাশ সাধারণ ক্রেতারা। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি না থাকায় ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
নগরীর কান্দিরপাড়, চকবাজার, রামগঞ্জ, শাসনগাছা, টমছমব্রিজ ও রানীর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বাজারে গোপালভোগ, হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের নামে বিক্রি হচ্ছে অপরিপক্ব আম। অনেক বিক্রেতা কৃত্রিম উপায়ে পাকানো আম কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেতারা জানান, বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও বাসায় নেওয়ার পর অনেক আম টক, শক্ত কিংবা ভেতরে কাঁচা পাওয়া যাচ্ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়ছেন ভোক্তারা।
নগরীর একাধিক ক্রেতা অভিযোগ করে বলেন, “মৌসুম না আসতেই বাজারে যেসব আম উঠেছে, সেগুলোর বেশিরভাগই অপরিপক্ব। দামও অনেক বেশি। বিক্রেতারা ভালো আম বলে বিক্রি করলেও পরে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারছি।”
এদিকে আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলের রাজশাহী জেলায় অপরিপক্ব আম বাজারজাত ঠেকাতে জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে ‘ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার’ প্রকাশ করেছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, গুটি আম ১৫ মে, গোপালভোগ ২২ মে, রাণীপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ ২৫ মে, হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত ৩০ মে এবং ল্যাংড়া আম ১০ জুনের আগে গাছ থেকে নামানো যাবে না বলে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম সংগ্রহ করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যালসিয়াম কার্বাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করে আম পাকানো হলে তা মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য এসব ফল বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, রাজশাহীর মতো কুমিল্লাতেও প্রশাসনের কঠোর বাজার মনিটরিং প্রয়োজন। ভেজাল ও অপরিপক্ব ফল বিক্রির বিরুদ্ধে দ্রুত অভিযান পরিচালনা না করলে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হবেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর কুমিল্লা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কাউছার মিয়া ডেইলি টাইমস নিউজকে জানান, “এ বিষয়ে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে।”
তবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ-এর কুমিল্লার নিরাপদ খাদ্য অফিসার জুয়েল মিয়ার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।