কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একাধিক মামলার আসামি ও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে পরিচিত দাউদকান্দি উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে পুনর্বহালের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সচেতন মহল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান শাহীন ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় অনুপস্থিত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে পুনরায় স্বপদে বহাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তবে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে প্রকাশ্যে আসার পরপরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপে ওই পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
যদিও এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় দাউদকান্দির বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পলাতক ও মামলার আসামিদের পুনর্বহালের চেষ্টা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, সুশাসন এবং আইনের শাসনের জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে।
কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে এবং যারা পলাতক, তাদের পুনর্বহালের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনকে অবশ্যই নিরপেক্ষ থেকে আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা এখনো রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে দায়িত্ব পালন করছেন না। তাদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া জরুরি।
উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ভেতরে যদি কোনো পক্ষপাতমূলক ভূমিকা থেকে থাকে, তবে তা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দাবি— উপজেলা প্রশাসনের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত, ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত কর্মকর্তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা, পলাতক ও মামলার আসামিদের পুনর্বহালের চেষ্টার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং দাউদকান্দির প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থা পুনরুদ্ধারে উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাছরীন আক্তারকে ফোন দেওয়া হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।