কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া, পটকা ফোটানো এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে কিশোর গ্যাংয়ের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন এলাকা থেকে ৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার। তিনি জানান, গত ৩ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে কোতোয়ালি থানাধীন ঠাকুরপাড়া মদিনা মসজিদ রোড এলাকায় একদল উচ্ছৃঙ্খল কিশোর গ্যাং সদস্য দেশীয় তৈরি অস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়। তাদের হাতে চাপাতি, রামদা, হাসুয়া, এসএস পাইপ দিয়ে তৈরি দেশীয় অস্ত্র এবং সুইচ গিয়ার ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় কিশোর গ্যাং সদস্যরা পটকা ফোটানো, মিছিলসহ শক্তির মহড়া, জনসাধারণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, ছোটাছুটি এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বিসিক শিল্পনগরী এলাকা এবং নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনায় সরাসরি জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ফরহাদ হোসাইন (২২), ইব্রাহিম হোসেন জসিম (২২), শাহাদত হোসেন শান্ত (১৯), তানভীর আহম্মেদ (১৬) এবং সাজ্জাদ হোসেন ওরফে রিতিক (১৭)। তারা সবাই কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরে গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের অশোকতলা বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন নোনাবাদ পুকুরের পূর্ব পাড়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে ৪টি দেশীয় তৈরি রামদা বা হাসুয়া এবং ১টি এসএস পাইপ দিয়ে তৈরি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।
পুলিশ আরও জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ও আটক কিশোররা নিজেদের নাম-ঠিকানা প্রকাশের পাশাপাশি তাদের সহযোগী আরও ১৪ জনের নাম-ঠিকানাও জানিয়েছে। তবে অজ্ঞাতনামা আরও অনেক দুষ্কৃতকারীর পরিচয় তারা জানে না বলেও পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়ের করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।