1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

আত্রাইয়ে তীব্র জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত তেল

এমরান মাহমুদ (আত্রাই প্রতিনিধি)
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৯৮ বার পঠিত

নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় তীব্র জ্বালানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। উপজেলার পালশা এলাকায় অবস্থিত নূর বানু ফিলিং স্টেশনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ সংকট এখন স্থানীয় জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। উপজেলায় একটি মাত্র তেলের পাম্প থাকায় মোটরসাইকেল চালক, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন বিকেল থেকে তেল সরবরাহের ঘোষণা দেওয়া হলেও গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও অনেকেই তেল না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন। তেল পাওয়ার আশায় আগেই ফিলিং স্টেশনের সামনে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই লাইন কয়েকশ’ মিটার ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যারা তেল পাচ্ছেন, তাদেরও দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০০ টাকার তেল। এতে দৈনন্দিন যাতায়াত, পেশাগত কাজকর্ম এবং জরুরি প্রয়োজনে চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সাগর আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিন দিন ধরে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে বিশাল লাইন দেখে ফিরে গেছি। এত কষ্ট করেও নিশ্চিত নই তেল পাব কি না। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টটা কেউ বুঝছে না। কিন্তু উপজেলার কিছু বাজারে বেশি দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই তেলগুলো তারা কোথায় পাচ্ছে?

ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেলের অভাবে কাজ সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী তেল পাওয়া যাচ্ছে না। অফিসে জবাবদিহি করতে হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর।

শুধু ব্যক্তিগত যানবাহনই নয়, তেলের সংকটে স্থানীয় পরিবহন ব্যবস্থাও প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকেরা পর্যাপ্ত তেল না পেয়ে নিয়মিত যাত্রী পরিবহন করতে পারছেন না। ফলে যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও যাতায়াত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের জন্য এ সংকট বিশেষ দুর্ভোগ ডেকে এনেছে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় অপেক্ষা, সীমিত সরবরাহ এবং অনিশ্চয়তার কারণে স্টেশন এলাকায় মাঝেমধ্যেই উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে। তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা বাড়ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ১ এপ্রিল থেকে সরকারি নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি নিশ্চিত করতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন এখানে বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল জমা হচ্ছে। তেলের স্বল্পতার কারণে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে, যা কখনো কখনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে। আমরা নিয়মিত উপস্থিত থেকে সিরিয়াল বজায় রাখার চেষ্টা করছি এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করছি।

উপজেলাটি বিলবেষ্টিত হওয়ায় এখানে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে সেচকাজ হয়ে থাকে। বর্তমানে ডিজেল সরবরাহ তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও সময় সময় কৃষকদের বেশি দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্টেশন কর্তৃপক্ষ এ সংকটের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থাকেই দায়ী করেছে। তাদের দাবি, উপরমহল থেকে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।

নূর বানু ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী মো. সম্রাট হোসেন বলেন, আমি মনে করেছিলাম এ মাস থেকে তেলের সংকট কিছুটা কেটে যাবে, কিন্তু তা হয়নি। আমি নিজেও এই পরিস্থিতিতে বিব্রত। উপর থেকে যে পরিমাণ তেল আসে, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই বাধ্য হয়ে মোটরসাইকেল প্রতি ২০০ টাকার তেল দিচ্ছি। আমি নিজে উপস্থিত থেকে চেষ্টা করছি যেন সবাই কিছুটা হলেও তেল পায়।

তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক মো. একরামুল বলেন, আমি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত যোগাযোগ করছি তেল নেওয়ার জন্য। ফিলিং স্টেশনে গেলে তারা বলে, তেল নেই। পরে তেল এলে জানাবে। কিন্তু কখন, কীভাবে জানাবে—তা আমরা জানি না।

এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মতে, এ সংকট শুধু একটি ফিলিং স্টেশনকেন্দ্রিক সমস্যা নয়; বরং এটি বৃহত্তর জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে। সময়মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত না হলে এ সমস্যা আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তারা দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, বাজার মনিটরিং জোরদার, বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা চালু এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আত্রাইবাসীর একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত এই তীব্র জ্বালানি সংকটের সমাধান এবং স্বাভাবিক সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। অন্যথায় জনজীবনে এর প্রভাব আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর