নওগাঁর রানীনগর উপজেলার মিরাট ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাল বিতরণে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি হিসাবে প্রত্যেক উপকারভোগীর ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৮ থেকে সাড়ে ৮ কেজি। এতে ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার হিসেবে বরাদ্দ হওয়া ভিজিএফের চাল থেকে প্রকাশ্যেই ‘ভাগ বসানো’ হচ্ছে। মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, কয়েকজন ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এই অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে মিরাট ইউনিয়নের জামালগঞ্জ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, তিনটি ওয়ার্ডে চাল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। সেখানে উপস্থিত উপকারভোগী সখিনা বিবি, হাজরা বেগম ও সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, ১০ কেজি চাল পাওয়ার কথা থাকলেও তাদের হাতে দেওয়া হচ্ছে অনেক কম।
তারা বলেন, “হামাকেরে ১০ কেজি দেবার কথা, দিচ্ছে ৮-৯ কেজি। প্রতিবাদ করলে বলে, চালই দিব না। গরিব মানুষের কথা শোনার কেউ নাই।”
একই অভিযোগ করেন আজাদ হোসেন নামের আরেক উপকারভোগী। তিনি জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ২ কেজি কম চাল পেয়েছেন।
চাল কম দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাদেশ এবং ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুস সালাম দায় চাপান খাদ্য গুদামের ওপর। তাদের দাবি, গুদাম থেকেই বস্তায় চাল কম এসেছে।
ইউপি সদস্য বাদেশ বলেন, আইসিটি অফিসারের সামনেই আমরা বস্তায় ২-৩ কেজি কম পেয়েছি। এখন নিজের পকেটের টাকা দিয়ে তো আর চাল কিনে দিতে পারব না, তাই সবাইকে কম দিচ্ছি।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—যদি গুদাম থেকেই কম আসে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন অভিযোগ বা প্রতিবেদন করা হয়নি?
৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. আজাদ হোসেনের বক্তব্যে অনিয়মের আরও গুরুতর ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নের প্রশাসক কামরুজ্জামান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলী আল ইফতেখার নাকি তাদের ৯ কেজি করে চাল দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে কোথাও ৮ কেজি চাল দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।
চাল কম দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে রানীনগর খাদ্য গুদামের ওসিএলএসডি তারানা আফরিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল হাসান বলেন, বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সচেতন মহলের দাবি: তদন্ত করে ব্যবস্থা নিন
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাতের পেছনে ইউপি প্রশাসক, কয়েকজন সদস্য এবং খাদ্য গুদাম সংশ্লিষ্টদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে সরকারের ঈদ উপহারের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে বলে মনে করছেন তারা।