নওগাঁয় চাঞ্চল্যকর মিতু বানু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার সময় টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ গুম করতে প্রতিবেশীর সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি সকালে ঘাতক জাহান আলী জনৈক মনতাসুরকে ফোন করে জানায় যে তার বাড়ির টয়লেটের ট্যাংকে একটি লাশ রয়েছে। খবর পেয়ে পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে মিতু বানুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৪৭) দায়ের করা হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটি নিবিড়ভাবে তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার (ক্রাইম) ও সদর থানার ওসিকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। এরপর জেলার বিভিন্ন স্থানে চিরুনি অভিযান চালানো হয়।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই), তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একে একে চার আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
গত ৭ মার্চ প্রথমে মূল হোতা জাহান আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাতকে গ্রেফতার করা হয়। সবশেষ ১০ মার্চ পুলিশি জালে ধরা পড়ে রেন্টু ইসলাম।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সামিদুল ও জাহান আলী জানান, ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে মিতু বানুকে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামের একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে জাহান আলী, রেন্টু, সুজ্জাত, সামিদুলসহ অজ্ঞাত আরও ১-২ জন অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়ার পরিকল্পনা করে। কিন্তু টাকা-পয়সা নিয়ে একপর্যায়ে মিতুর সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে মিতু চিৎকার শুরু করলে ‘মান-সম্মানের ভয়ে’ রেন্টু তার মুখ ও গলা চেপে ধরেন। এ সময় অন্যরা তার হাত-পা চেপে ধরে। এতে শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে রেন্টুর পরামর্শে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের মনতাসুরের বাড়ির সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখা হয়।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা পুলিশ যেকোনো ধরনের অপরাধের রহস্য উদঘাটন এবং আসামি গ্রেফতারে আপসহীন। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিচক্ষণ তদন্তের ফলেই এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য দ্রুত উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত সামিদুল ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।