কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে চোরাইভাবে জ্বালানি তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। মহাসড়কের পাশের খোলা জায়গা, ছোট দোকান কিংবা অস্থায়ী ঘর তৈরি করে প্রকাশ্যেই এসব তেল বিক্রি করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একটি অসাধু চক্র মহাসড়কে চলাচলরত তেলবাহী লরি, কাভার্ড ভ্যান, ট্রাক ও কন্টেইনার ট্রাক সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে নিয়মিত অবৈধভাবে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে কম দামে বিক্রি করছে। এতে একদিকে তেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের বিপুল রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধ ফিলিং স্টেশন ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব চোরাই জ্বালানি তেল বিক্রি হওয়ায় তা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডেও ব্যবহারের ঝুঁকি রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বড় বড় ড্রাম ও প্লাস্টিকের পাত্রে এসব তেল সংরক্ষণ করা হয়। পরে সুবিধাজনক সময়ে ট্রাক, বাস, কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেল চালকদের কাছে কম দামে তা বিক্রি করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এসব অবৈধ তেল ব্যবসার সঙ্গে একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে।
জানা যায়, চোরাই তেল বিক্রির নেপথ্যে সাংবাদিক পরিচয়ে স্থানীয় কয়েকজন অসাধু ব্যক্তির নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা এসব দোকান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে থাকেন এবং এর বিনিময়ে তাদের নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন।
সোমবার (৯ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কুমিল্লায় কর্মরত কয়েকজন সাংবাদিক ব্যক্তিগত কাজে কুমিল্লা থেকে ফেনীর উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। এসময় চৌদ্দগ্রামের বাবুর্চি বাজার এলাকায় পৌঁছালে মহাসড়কের পাশে ফ্রেশ কোম্পানির একটি কন্টেইনার ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ঢ ৬২-০৩৪৫) থেকে চোরাইভাবে জ্বালানি তেল নামানোর সময় তারা হাতেনাতে ঘটনাটি দেখতে পান। পরে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
এদিকে খবর পেয়ে জাতীয় পাটির রাজনীতিতে যুক্ত থাকা স্থানীয় সাংবাদিক পরিচয়ে আবুল কালাম মজুমদার নামে এক ব্যক্তি মুঠোফোনে অভিযুক্তদের তার আত্মীয় দাবি করে তাদের আইনের হাতে তুলে না দেওয়ার জন্য তদবির করেন। পরে তিনি ঘটনাস্থলে এলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সেখান থেকে সরে যান।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেশের সব জেলা প্রশাসককে নিজ নিজ জেলায় জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কোথাও যেন তেলের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি না হয় এবং অবৈধ মজুত, চোরাচালান বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির ঘটনা না ঘটে—সেজন্য কঠোর নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশও রয়েছে।
তবে এ নির্দেশনার আলোকে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা প্রত্যাশা করা হলেও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলামকেও বিষয়টি মুঠোফোনে জানানো হলেও তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ফলে ঘটনাস্থলে প্রয়োজনীয় প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো এবং চোরাই তেল বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।