কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় জনতার হাতে মাদকসহ আটক হওয়া এক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন পর্যায়ের এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ ভিন্ন এক ব্যক্তিকে পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা দায়ের করায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভরসার বাজার এলাকায় জিসান ফুয়েল সেন্টার নামক একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে মসু মিয়া (৫৫) নামে এক সাইকেল মেকানিককে প্রায় ২ কেজি গাঁজাসহ আটক করেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ৪নং ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহম্মেদ। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আটক ব্যক্তিকে ছেড়ে দেন। এ সময় জব্দকৃত গাঁজা পুড়িয়ে ফেলার চেষ্টা করা হলে উপস্থিত কয়েকজন তা বাধা দেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা চাইছিলাম পুলিশ এসে আইনি ব্যবস্থা নিক। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিষয়টি অন্যদিকে মোড় নেয়।”
জুয়েল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করে পুলিশি সহায়তা চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পরও ঘটনাস্থলে পুলিশ না পৌঁছালে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহম্মেদের সহায়তায় তার ছেলে ফয়সাল আহম্মেদ (২৮) এলাকায় মাদক ও চোরাকারবারির সঙ্গে জড়িত। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন পূর্বে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় তারা সক্রিয়।
ভরাসার বাজার কমিটির সভাপতি আলমঙ্গীর বলেন, “আমি খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মসু মিয়াকে মাদকসহ আটক অবস্থায় দেখি। পরে সালেহ আহম্মেদ এসে তাকে ছেড়ে দেন। সৈকত (৩০) নামে যাকে মামলায় আসামি করা হয়েছে, সে ঘটনাস্থলে ছিল না।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ৪নং ষোলনল ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সালেহ আহম্মেদ প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেন। পরে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দেন।
এ বিষয়ে বুড়িচং থানার সাব-ইন্সপেক্টর জাকির হোসেন বলেন, “৯৯৯ কল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো আসামিকে পাওয়া যায়নি। উপস্থিত লোকজন যার নাম বলেছে তাকেই আসামি করা হয়েছে।”
পুলিশের দায়ের করা একমাত্র পলাতক আসামী সৈকত (৩০) এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ ঘটনায় আমি কোন ভাবেই জড়িত না। আমি দীর্ঘদিন যাবত সিএনজি চালিয়ে পরিবার চালায়। আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোন রেকর্ড নাই।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, “বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা- সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।