নওগাঁর মহাদেবপুরে আত্রাই নদীর ওপর নির্মাণাধীন কালনা-বিষ্ণুপুর সেতুর কাজ দীর্ঘদিন ধরে মাঝপথে বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন Local Government Engineering Department (এলজিইডি)-এর তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য এ প্রকল্পের প্রায় ৬৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যত কাজ বন্ধ রেখে সরে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
২৬২ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নির্মাণ কাজের কার্যাদেশ দেওয়া হয় ২০১৮ সালের ২১ জুন। সিডিউল অনুযায়ী ২০২২ সালের ২৯ অক্টোবর কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় সাড়ে চার বছর আগে। এরপরও কাজ সম্পন্ন হয়নি।
শুরু থেকেই ধীরগতিতে চলা নির্মাণকাজ বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ইতোমধ্যে সাতটি স্প্যানের মধ্যে পাঁচটির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশের কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান এবং এনায়েতপুর ইউনিয়নের কালনা-বিষ্ণুপুর খেয়াঘাট দিয়ে নদীর দুই পাড়ের হাজার হাজার মানুষ নৌকায় পারাপার করছে। এতে কৃষিপণ্য পরিবহন, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সোমাসপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আক্কাস আলী বলেন, এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও এখন তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর পশ্চিম পাড়ের কোনো অসুস্থ ব্যক্তি বা গর্ভবতী মাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে অন্তত ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে। খুদে শিক্ষার্থীরাও প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় যাতায়াত করছে।
ব্যাংক জটিলতা ও আর্থিক সমস্যার কারণে কাজ বন্ধ থাকার কথা স্বীকার করে আইসিএল প্রাইভেট লিমিটেডের ইঞ্জিনিয়ার সিহাব হোসেন মুঠোফোনে জানান, নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হলেও মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) সৈকত দাস ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কথা স্বীকার করে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কার্যাদেশ বাতিলের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হবে এবং প্রয়োজনে নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সেতুটি চলাচলের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি—দীর্ঘদিনের স্বপ্নের কালনা-বিষ্ণুপুর সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।