নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ফসলি জমির উপরিভাগ কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে জমির উর্বরতা কমছে এবং কৃষিপণ্যের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় মোট ৪,৩৬০ হেক্টর তিন ফসলি আবাদি জমি রয়েছে। এসব জমিতে ধান, পাট, পেঁয়াজ, গম, ভুট্টা, সরিষা, মরিচ ও বেগুনসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য উৎপাদন করা হয়। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সরকারি নিয়ম অমান্য করে এই জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফসল উৎপাদনের জন্য মাটিতে কমপক্ষে ৫% জৈব উপাদান থাকা জরুরি। কিন্তু ইটভাটার মালিকরা মাটির উপরের এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত কেটে নিচ্ছেন, ফলে কেঁচোসহ উপকারী পোকামাকড়ও ধ্বংস হচ্ছে।
আত্রাইয়ে বর্তমানে ১৮টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বৈধ, ৫টি অবৈধ এবং বাকিগুলো কার্যক্রম সীমিত। সম্প্রতি পরিবেশ অধিদফতরের অনুমতি না থাকায় ৭টি ভাটা বন্ধ করেছে, তবে অনেকটি পুনরায় চালু হয়েছে। সরকারি বিধি অনুযায়ী, ইটভাটা সর্বোচ্চ ৪.৫ বিঘা অকৃষি জমিতে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে তিন কিলোমিটারের মধ্যে স্থাপন করা যেতে পারে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানা হয়নি।
ইটভাটার জন্য বছরে ৫০–৫৫ লাখ ইট উৎপাদন হয়। প্রতি হাজার ইট তৈরিতে প্রায় ৮৮ ঘনফুট মাটি ব্যবহার হয়। অর্থাৎ, একটি ইটভাটায় বছরে প্রায় পাঁচ লাখ ঘনফুট মাটি দরকার হয়। মাটি ক্রয়ের জন্য মালিকরা কৃষকের কাছে মাত্র ৫০০–৭০০ টাকায় মাটি কিনছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ট্রাক্টর দিয়ে মাটি পরিবহন করা হয়, যা যানজট এবং ছোটখাটো দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে।
কচুয়া গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “টাকার লোভে জমির মাটি বিক্রি করি, কিন্তু ফসলের ক্ষতি হয় তা জানি না।” একাধিক ইটভাটার মালিকও স্বীকার করেছেন, “ইটভাটা চালাতে কিছুটা অনিয়ম হচ্ছে, কারণ জমি ও মাটি পাওয়া কঠিন।
প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, “কৃষিজমির উপরিভাগ কেটে নেওয়ায় পুষ্টি উপাদান কমে যাচ্ছে এবং ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে আমরা সরাসরি ব্যবস্থা নিতে পারি না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম জানিয়েছেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সাজা প্রদান করা হবে। এছাড়া জনসচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে।” অবৈধ ইটভাটার বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি অবৈধ ইটভাটা সম্পর্কে কিছু জানি না।”