কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ইলেকট্রিক সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য পুড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন মালিকপক্ষ।
আজ মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গৌরীপুর–হোমনা সড়কের পূর্ব পাশে, গৌরীপুর রেডিয়াম হাসপাতাল ও অক্সফোর্ড স্কুলের সামনে অবস্থিত ‘মেসার্স নিহান এন্টারপ্রাইজ’-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
প্রতিষ্ঠানটির মালিক রকিব উদ্দিন মিয়াজী জানান, ইফতারের জন্য দোকান বন্ধ করে তিনি পাশের গ্রাম বারপাড়ায় যান। ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে মুঠোফোনে খবর পান দোকানে আগুন লেগেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে ফিরে এসে দেখেন, পুরো দোকানজুড়ে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। সে সময় আগুন নেভানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
স্থানীয়দের খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর দাউদকান্দি স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। একই সঙ্গে গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে।
চোখের পানি মুছতে মুছতে রকিব উদ্দিন মিয়াজী বলেন, ব্র্যাক ব্যাংক ও সিটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ এবং আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় তিনি ব্যবসার পণ্য সংগ্রহ করেছিলেন। অগ্নিকাণ্ডে দোকানের অধিকাংশ মালামাল পুড়ে গেছে। “সব শেষ হয়ে গেল”—এ কথা বলেই তিনি ভেঙে পড়েন। এ সময় তাঁর স্বজনরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি সুপারস্টার এবং বসুন্ধরা গ্রুপ-এর বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ করত। দোকানে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক সামগ্রী ও বসুন্ধরার টিস্যুসহ বিপুল পরিমাণ পণ্য মজুত ছিল। অগ্নিকাণ্ডের দিনই প্রায় ৫০ লাখ টাকার নতুন ইলেকট্রনিক পণ্য দোকানে তোলা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
দাউদকান্দি ফায়ার স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা ইরশাদ হোসাইন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। তিনি বলেন, “সারাদিন রোজা রেখে আমাদের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেছেন। অনেকেই সময়মতো ইফতার করতে পারেননি। ঘন ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন।”
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, অগ্নিকাণ্ডের প্রাথমিক কারণ হিসেবে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে।