নওগাঁর মান্দায় অটোরিকশা চালককে কৌশলে অচেতন করে চার্জারচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই কুখ্যাত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে মান্দা থানা পুলিশ। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অটোরিকশা চালক রায়হান কবির নিয়ামতপুর বাসস্ট্যান্ডে অবস্থান করছিলেন। এ সময় চারজন ব্যক্তি সতীহাট যাওয়ার কথা বলে ৫০০ টাকা ভাড়ার প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি হয়ে তিনি দুপুর দেড়টার দিকে সতীহাট বাজারে পৌঁছান। সেখানে অভিযুক্তরা তাকে একটি দোকানে খাবার খাওয়ায় এবং জানায় যে তারা সেদিন আর নিয়ামতপুর ফিরবে না। তার মোবাইল নম্বর নিয়ে পরে যোগাযোগের কথা বলে তারা চলে যায়।
পরবর্তীতে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একই ব্যক্তিরা রায়হানকে ফোন দিয়ে সতীহাট বাজারে আসতে বলে। সেখানে পৌঁছালে চারজন যাত্রী তার অটোরিকশায় ওঠে এবং জানায়, তাদের একজন মৈনম বাজারে আছে, তাকে নিয়ে নিয়ামতপুরে ফিরবে। মৈনম বাজারে গিয়ে তারা জানায় ওই ব্যক্তি সিংগী বাজারে অবস্থান করছে। সিংগী বাজারে যাওয়ার পথে মান্দা থানার ৬ নম্বর মৈনম ইউনিয়নের নওগাঁ-রাজশাহীগামী আঞ্চলিক মহাসড়কের চেয়ারম্যানের মোড় এলাকায় পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা কৌশলে তাকে ‘স্পিড’ জাতীয় নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে।
পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় দেখতে পান। এ ঘটনায় মান্দা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মান্দা থানা পুলিশ বিশেষ টিম গঠন করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও গোপন তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে নওগাঁ সদর থানার হাঁপানিয়া বাজার এলাকা থেকে জুয়েল হোসেন (৪৪) নামে এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাটোরের সিংড়া উপজেলা এলাকা থেকে কাবিল উদ্দিন (৩৩) কে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইকৃত চার্জারচালিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নওগাঁ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “সড়কে ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”