কুমিল্লার দাউদকান্দিতে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাঈদ ভূইয়া (২৩)। তিনি মালিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি।
নিহতের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া এ ঘটনায় দাউদকান্দি মডেল থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের মো. জসিম মিয়া (৩৫) ও মো. ওমর সানি (৩০)কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে মালিগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া নিহত সাঈদের বাবার কাছে গিয়ে তার ছেলে সাঈদের বিরুদ্ধে হাঁস চুরির অভিযোগ করেন। এ সময় সাঈদের বাবা জানান, তার ছেলে যদি চুরি করে থাকে তবে বাড়িতে এলে বিষয়টি মীমাংসা করে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্জাক মিয়া সেখান থেকে চলে যান।
পরে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে কৌশলে সাঈদকে রাজ্জাক মিয়ার বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে রাজ্জাক মিয়া, তার ছেলে রাব্বি ও জাহিদ, ভাতিজা শাওনসহ আরও ৪-৫ জন সহযোগী সাঈদকে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে তাকে মালিগাঁও গ্রামের আলমের মুদি দোকানের সামনে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করা হয়।
নিহতের বাবা জানান, খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার ছেলেকে মুদি দোকানের সামনে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মালিগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে সাঈদের মৃত্যু হয়।
দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।