আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে পুলিশ অফিসার ও ফোর্স সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-নির্বাচনি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি ২০২৬) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) জনাব বাহারুল আলম।
সভায় স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পেশাদারিত্ব, প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের বাস্তব অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং কল্যাণমূলক বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—দ্বীপ থানাগুলোর জন্য স্পিড বোট সরবরাহ, মোটরসাইকেল কেনায় ঋণ সুবিধা, দ্বীপ ভাতা চালু ও বৃদ্ধি এবং নির্বাচনকালীন দায়িত্বে নিয়োজিত সদস্যদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের জান-মাল নিরাপত্তায় সর্বদা নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জনবান্ধব পুলিশিং আরও জোরদার করার পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, ধৈর্য ও সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ। তিনি মহানগর এলাকায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে অতিরিক্ত আইজিপি ও চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ আইজিপির নির্দেশনা বাস্তবায়নে সকল ইউনিটকে শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
সভায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশসহ চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ২৯টি ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পদমর্যাদার মোট ৪৫৮ জন পুলিশ সদস্য অংশগ্রহণ করেন।
পুলিশ সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধির পাশাপাশি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে এ সভাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।