কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় অবৈধভাবে মাটি কাটার ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সরাসরি নির্দেশনাকে উপেক্ষা করে অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল মোস্তফার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও দায়িত্ব পালনে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকরা।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১১টার দিকে। জানা যায়, সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার ফ্লাইওভার ব্রিজের পশ্চিম পাশে মীর হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে স্কেভেটর মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় সরবরাহ করছিলেন—এমন তথ্য সাংবাদিকদের কাছে আসে।
খবর পেয়ে জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের অন্তত ৭-৮ জন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
পরবর্তীতে সাংবাদিকরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি একটি সভায় ব্যস্ত থাকার কথা জানান। পরে তিনি সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেন।
অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এমন নির্দেশনার পরও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করলেও ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য উপস্থিত হননি। পরে সাংবাদিকরা থানার ওসির সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে পুলিশের তেমন কিছু করার নেই এবং এসিল্যান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী সুবিধামতো সময়ে পুলিশ গিয়ে দেখে আসবে।
এ সময় সাংবাদিকদের উদ্দেশে ওসি বলেন, “আপনারা সেখানে থেকে কী করবেন? আপনারা চলে যান।”
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওসি সাহেবের আগে কিছুটা অসহযোগিতা ছিল, তবে বর্তমানে সহযোগিতা চাইলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সহযোগিতা করেন।”
তিনি আরও বলেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে মাটি খেকো চক্র কিছুটা তৎপর হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
এদিকে ঘটনার পর শুক্রবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংবাদ লেখা হলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ না গেলেও উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) সজীব তালুকদার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন—এমন তথ্য গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
তবে পুলিশের এমন ভূমিকা ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিক মহল ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
এদিকে আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে যে, অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে থানা পুলিশের কিছু সদস্যের গোপন সমন্বয় রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন এলাকায় মাটি কাটার জন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক নির্ধারিত অংকের টাকা নেওয়া হয়। পাশাপাশি রাতের টহল ডিউটিতে থাকা পুলিশ সদস্যদের চা-নাশতার নামেও অর্থ আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাটি ব্যবসায়ী জানান,
“থানায় কিছু খরচ তো দিতেই হয়। না দিলে মাটি কাটতে পারবো না। আর রাতে টহলে থাকা পুলিশকে চা-নাশতা ও বিড়ির জন্য টাকা দিতে হয়। সবাইকে ম্যানেজ করেই টুকটাক চলতে হয়।”
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার এক পুলিশ সদস্য বলেন, “এটা কমন বিষয়। থানার বিভিন্ন খরচ মেটাতে মাটি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক টাকা আসে। আর রাতে টহলের সময় কিছু নেওয়া হয়, যেটা দিয়ে চা-নাশতা করা হয়।”
এদিকে এমন ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিক, সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী।