নোয়াখালীর হাতিয়ায় বিভিন্ন ইটভাটা থেকে প্রায় ৫২ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান দায়িত্ব নেওয়ার পর অবৈধ ও পরিবেশবিরোধী ইটভাটার বিরুদ্ধে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে একটি চক্রকে ব্যবহার করে এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদ হাতিয়ায় ব্যাপক চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে।
টাইমস নিউজের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাতিয়ায় বর্তমানে অন্তত ৩২টি ইটভাটা রয়েছে, যেগুলোর বেশিরভাগই পরিবেশগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এবং অবৈধ। জুলাই- আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব ভাটা সচল রাখার নামে প্রতিটি ভাটা থেকে গড়ে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩২ লাখ টাকা আদায় করা হয়। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলে আরও ৪টি ইটভাটা থেকে গড়ে ৫ লাখ টাকা করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
চাঁদার টাকা আদায়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয় বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ওই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে এস আর ব্রিকস ফিল্ডের মালিক তানভির এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাজ্জাদ ব্রিকস ফিল্ডের মালিক আমজাদের নাম উল্লেখ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তমরুদ্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ইটভাটা মালিক আলাউদ্দিন বাবু বলেন, জুলাই-আগষ্টের পর পরিবেশবিরোধী ইটভাটার বিরুদ্ধে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ জারি করলে গত বছরের নভেম্বরে হাতিয়ার সকল ব্রিকস ফিল্ডের মালিকদের নিয়ে এনসিপির নেতা হান্নান মাসউদ একটি মিটিং ডাকে। আমরা সবাই উপস্থিত হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান ও ভাটা বন্ধের ভয় দেখিয়ে আমাদের সবার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা করে আদায় করা হয়। আর আওয়ামীলীগ করার কারণে ৪জনের থেকে ৫ লক্ষ টাকা করে ২০ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়েছে আমার সামনে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে এনসিপি নেতা আব্দুল হান্নান মাসউদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এতে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের নোয়াখালীর উপ-পরিচালক শওকত আরা কলি ও সহকারী পরিচালক নুর হাসান সজীবকে একাধিকবার কল দেওয়া হলে কেউই ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, পরিবেশ রক্ষার নামে যদি চাঁদাবাজি হয়ে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এবিষয়ে জানতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) নোয়াখালীর উপ-পরিচালক মোঃ ফারুক আহমেদকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনিও ফোন রিসিভ করেননি।