কুমিল্লার চান্দিনায় সৌদি আরবে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে মানবপাচার এবং তার পরিবারের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এক আদম ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা।
ভুক্তভোগী মোছাঃ মোহছেনা বেগম, কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নম্বর আমলী আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে চান্দিনা উপজেলার জোয়াগ গ্রামের সিরাজ মাস্টারের ছেলে আমান উল্লাহ নামের এক আদম ব্যবসায়ীকে।
স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে এর আগেও নানা অভিযোগ রয়েছে। সে কদিন আগে দেশে আসলেও এখনো এলাকায় আসেনি। অনেকটা আড়ালে থেকেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘদিন সৌদি আরবে অবস্থান করে আমান উল্লাহ প্রবাসে উচ্চ বেতনের চাকরির আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন মানুষকে প্রলোভন দেখিয়ে আসছিল। তারই ধারাবাহিকতায় মোহছেনা বেগমের একমাত্র পুত্র ইমামুল হক রাসেলকে সৌদি আরবে একটি কফি হাউজে মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনের চাকরির কথা বলা হয়।
ভিসা, মেডিকেল, পাসপোর্ট ও অন্যান্য খরচের কথা বলে ধাপে ধাপে রাসেলের পরিবারের কাছ থেকে মোট ৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়। স্বজন ও স্থানীয়দের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে এ অর্থ জোগাড় করা হয়েছিল বলেও মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাসেলকে সৌদি আরবে নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। অভিযোগে বলা হয়, তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মাদক ব্যবসায় জড়াতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হলে মিথ্যা মাদক মামলায় ফাঁসানো ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
প্রায় ১০ থেকে ১১ মাস কোনো কাজ না দিয়ে তাকে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরানো হয়। পরে কিছুদিন আগে সেখানে মাদক দিয়ে ফাঁসিয়ে দিলে একপর্যায়ে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরে অন্য একজনের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে রাসেল তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুরো ঘটনা জানালে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত আমান উল্লাহ তড়িঘড়ি করে দেশে ফিরে আসলেও বাসায় উঠেননি। ফলে বিষয়টি আরো গভীর হতে থাকে। এতে ভুক্তভোগীর মা ক্ষতিপূরণ ও ছেলের খোঁজ চাইতে গেলে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর পরিবার টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগী রাসেলের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার বলছেন, এটি একটি সু-পরিকল্পিত মানবপাচার ও প্রতারণার ঘটনা। ভুক্তভোগী ছেলে রাসেলকে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর পরিবারের বক্তব্য জানতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে অভিযুক্ত আমান উল্লাহর শশুর জানান, আমরা ঘটনাটি শুনে তাদের বাসায় এসেছি, বিস্তারিত জানার চেষ্টা করছি।