চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্কিট হাউজ মোড় এলাকায় পুলিশের চেকপোস্টে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই যুবক নিহতের ঘটনায় টাইমস নিউজে সংবাদ প্রকাশের পর রাতেই দুই পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ওই ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার সার্কিট হাউজ এলাকায় ৬–৭ জন পুলিশ সদস্য একটি পিকআপ ভ্যানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় হেলমেট বিহীন একটি মোটরসাইকেলকে থামতে সংকেত দিলে সেটি না থেমে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। একজন পুলিশ সদস্য মোটরসাইকেলটি ধরার চেষ্টা করলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকের নিচে ছিটকে পড়েন। এরপর পুলিশ সদস্যরা আহতদের উদ্ধার না করে দ্রুত পিকআপ ভ্যানে করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জ-শিবগঞ্জ সড়কের উপর মরদেহ রেখে অবরোধ করে। এক পর্যায়ে বিশ্বরোডে পুলিশ বক্স ও শান্তিবাগের পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহায়তায় রাত সাড়ে ৭ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার পর নিবন্ধনহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় সার্কিট হাউস মোড়ে চেকপোস্ট বসানো হয়। সেখানে ট্রাফিক পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা ছিলেন। ওই চেকপোস্টে রিফাত ও সোহাগের মোটরসাইকেল থামানোর জন্য সংকেত দেয়া হয়। কিন্তু সংকেত অমান্য করে তারা গতি বাড়িয়ে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে দুর্ঘটনায় পড়ে এবং মৃত্যু হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের একটি ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখছে পুলিশ। সেখানে মনে হচ্ছে মোটরসাইকেল যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধাক্কা দিচ্ছে বা ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ। ফুটেজগুলো আরও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে ৭ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে
নেয়া হয়েছে।