ছাত্র জীবনে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন ঢাকা রেঞ্জের পলাতক সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম। ২০তম বিসিএসের পুলিশ ক্যাডারের মধ্য দিয়ে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। চাকরি জীবনে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিশেষ সখ্যতার জোরে কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। নামে-বেনামে দু’হাতে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
২০১৮ সালের ১৬ আগস্ট পুলিশ সুপার হিসেবে কুমিল্লায় যোগ দিয়ে টানা ২ বছর ৫ মাস দায়িত্ব পালন করেন। ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি তিনি কুমিল্লা থেকে বিদায় নেন। এরপর ডিএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ২০২২ সালের ২৩ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি পদে নিয়োগ পান।
ক্ষমতার শিখরে থেকে আওয়ামী লীগ সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় নিজের একজন আপন ভাইকে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আরেক ভাইকে পৌর মেয়র বানানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষায় তিনি ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ–১ আসন থেকে প্রার্থী হতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পারেননি। পরে ২০২৪ সালের নির্বাচনের জন্যও তিনি মাঠপর্যায়ে নানা প্রস্তুতি নেন।
গত ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর তাকে ঢাকা রেঞ্জ থেকে সরিয়ে রাজশাহীর সারদায় সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু তাকে সেখানে দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। একাধিক মামলার আসামি হিসেবে নাম থাকলেও এখনো গ্রেপ্তার বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে নানা মহলে।
তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং ও রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে—তিনি এবং দুবাইভিত্তিক একটি কোম্পানি (টিএসএম) ক্রিকেট সম্প্রচারের সত্ব কেনার নামে অবৈধ অর্থপাচার ও কর ফাঁকি দিয়েছেন।
হত্যা, গুম-মামলা এবং সাধারণ মানুষের ওপর পুলিশের অত্যাচারে তার নাম বহুবার উঠে এসেছে। দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও ক্ষমতার অপব্যবহারে গত কয়েক বছরে পুলিশের অভ্যন্তরীণ ন্যায্যতা ও জনআস্থা ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি নন। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে—তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে।