কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার বেলাশ্বর এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক গৃহবধূ ও তার পরিবারের সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে সালমা আক্তার নামে এক নারী কুমিল্লার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় ৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাত পরিচয়ের আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী জানান, স্থানীয় এক ব্যক্তি তার মালিকানাধীন ২০ শতাংশ জমি বিক্রি করার পর থেকেই আসামি পক্ষের সাথে বিরোধ বাড়তে থাকে তাদের। এ নিয়ে থানায় অভিযোগ হলে এসআই ইমাম নামে পুলিশের এক অফিসার তদন্তে আসে। ঘটনাস্থলের পাশের হওয়ায় এক নারীর কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা তুলে ধরেন। এই অজুহাতে অভিযুক্তরা ১৬ নভেম্বর বেলা ১১টার সময় তাকে উদ্দেশ্য করে বিবাদীরা অশালীন ভাষায় চিৎকারসহ মারধর করে হেনস্তা করে। পরে ওই ভুক্তভোগী নারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমাম অভিযোগ পেয়ে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে পক্ষপাতমূলক আচরণ ও সামাজিক সিন্ডিকেট পরিচালনা করার। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কোন প্রতিকার না পেয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট বিষয়টি জানালে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইমাম তার প্রতি ক্ষিপ্ত হইয়া অশালীন আচরণ করে এবং হুমকি প্রদান করে।
দ্বিতীয় দফার ঘটনা ঘটে ২৬ নভেম্বর বিকেলে। বাদীর অভিযোগ, ওইদিন এসআই ইমাম তদন্তের নামে ঘটনাস্থলে একা গিয়া কোন তদন্ত না করে বিবাদীদের উস্কানি দিয়া ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। এতে বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে তাদের বসতভিটার ভেতরে ঢুকে হামলা চালায় এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মারধর করে আহত করে লুটপাট করে। এসময় বিষয়টি থানার ওসিকে জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে আইনি সহায়তা চাওয়া হলেও কোন সহায়তা করেননি। ফলে আহতরা পরে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাওয়ার পথে গাড়িগতিরোধ করে বিবাদীরা আরেক দফায় হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। পরে হসপিটালে চিকিৎসা নিতে গেলে সেখানেও তাদের বাধাঁ দিয়ে হামলা ও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
২৬ তারিখের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থানার এসআই ইমাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসেন বলেও বাদী দাবি করেন। পরে আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার দুদিন পর আহত ব্যাক্তিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হসপিটালে অবস্থান করলেও রাতের বেলায় এসআই ইমাম ভুক্তভোগীদের ফোন দিয়ে গ্রেফতার করার হুমকি দেন।
বাদী জানান, আসামিরা তাদের নিয়মিত হুমকি প্রদান করছে এবং পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাই তিনি আদালতের নিকট বিচার ও আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী সালমা আক্তার নামে ওই নারী প্রতিকার চেয়ে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযুক্ত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ উল ইসলাম ও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এদিকে অভিযুক্তদের বক্তব্য পেতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাবেদ উল ইসলাম সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে সকল ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে অভিযোগ তুলে নিতে অনুরোধ জানান এবং নিউজ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। আর অভিযুক্ত এসআই ইমামও সকল ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সম্প্রতি থানা পুলিশ সাধারণ মানুষের সেবা না করে দালাল ও অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে। ৫ তারিখের পরও পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও জল্পনা তৈরি হয়েছে। তারা দাবি করছেন, পুলিশের এই আচরণ অর্থের বিনিময়ে অপরাধীদের রক্ষা করার সামিল। এখন নজর রয়েছে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপে, অভিযুক্ত দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।