1. admin@timesnews24.live : admin :
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

চান্দিনা থানার ওসি–এসআইয়ের অপকর্মে উত্তপ্ত এলাকা, সাংবাদিকের অভিযোগ আইজিপির কাছে

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৩৬৪ বার পঠিত

কুমিল্লার চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ও থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই ইমাম হোসেনের বিরুদ্ধে ঘুষ–বাণিজ্য, দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তোলা, মামলা নিয়ন্ত্রণে ভয়ভীতি প্রদর্শন, সাধারণ মানুষকে হয়রানি এবং ‘কথিত বিচারক’ নিয়োগ দিয়ে বিচার–বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের বরাত এবং অনুসন্ধানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
‎
‎আইনশৃঙ্খলা অবনতি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য:-
‎স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, এ দু’জন কর্মকর্তা চান্দিনা থানায় যোগদানের পর এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক লেনদেন, সামাজিক বিরোধ, জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনায় হঠাৎ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। অভিযোগকারীরা বলছেন—ওসি ও এসআই মিলে থানাকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত ‘সিন্ডিকেট বাহিনী’ তৈরি করেছেন, যারা টাকার বিনিময়ে স্থানীয় বিরোধে সালিশ, বিচার ও সমাধানের নামে নানা ধরনের অনিয়ম চালাচ্ছে।
‎
‎ওসি জাবেদ উল ইসলামের পূর্বের বিতর্কিত কর্মকাণ্ড:-
‎জানা যায়— চান্দিনায় বদলি হওয়ার আগে জুলাই আগষ্টের ঘটনায় কুমিল্লার সাবেক এসপি (গ্রেফতারকৃত) আব্দুল মান্নানের অত্যান্ত আস্থাভাজন হিসেবে তিনি তার সময়ে কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ ফাঁড়ি বুড়িচং থানার দেবপুর পুলিশ ফাঁড়িতে ইনচার্জ (আইসি) হিসেবে দীর্ঘ ২ বছরের ওপরে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ই তার বিরুদ্ধে মাসোয়ারা নেওয়া, প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কাজ করা, আটক–বাণিজ্য চালানো ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ওঠে। আন্দোলন চলাকালীন সময় আওয়ামীলীগ সরকারের পক্ষে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামীলীগ সরকার পতনের পর তাকে কুমিল্লার হেমনা থানায় ওসি হিসেবে পদায়ন করা হলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে সেখান থেকে আবার তিনি চান্দিনায় বদলি হন। স্থানীয়রা বলছেন—চান্দিনা থানায় আসার পর তার আচরণ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।
‎
‎এসআই ইমামের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:-
‎কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পাওয়া এসআই ইমাম ৫ আগষ্টের আগে কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ থানায় দীর্ঘদিন চাকরি করার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সেখান থেকে বদলি হয়ে জেলার চান্দিনা থানায় যোগ দেন। থানায় যোগদান করার পরপরই তাকে সেকেন্ড অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়ে সহকর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা বলছেন—তিনি বিভিন্ন দালাল ও অপরাধীদের নিয়ে একটি বিশেষ সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধে ‘বিচারক’ নিযুক্ত করেন এবং টাকার বিনিময়ে ঘটনার তদন্ত, সমাধান ও মামালা নিয়ন্ত্রণ করেন।
‎
‎অভিযোগ: ভুক্তভোগীদের ওপর হুমকি ও অপেশাদার আচরণ:-
‎ভুক্তভোগীদের অভিযোগ—এসআই ইমাম থানায় এসে সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন, সেবা নিতে গেলে হেনস্তা করেন এবং মামলা করতে চাইলে ভয়ভীতি দেখান। গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্তের নামে স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে অর্থ নেওয়া, পরে অভিযুক্তদের বাঁচাতে ‘কথিত বিচারক’ নিয়োগ দেওয়া এবং বাদীকে চাপে রাখা—এমন একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‎
‎নারী ভুক্তভোগীর মামলায় অসদাচরণ ও হামলার ঘটনা:-
‎জমি–জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক নারী সাক্ষীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ আসে ১৬ নভেম্বর। অভিযোগটি চান্দিনা থানায় জমা দিলে এসআই ইমাম অভিযোগকারীকে হয়রানি করতে থাকেন। তিনি তদন্তের নামে সমাজের চিহ্নিত অপরাধীদের “বিচারক” হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার কথা জানান।
‎
‎২৬ নভেম্বর ভুক্তভোগী ওই নারী ওসির শরণাপন্ন হলে এসআই ইমাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং ওই নারীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন বিকেলে এসআই ইমাম ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত না করে অভিযুক্তদের উস্কে দিয়ে চলে যান। এরপর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার স্বামীকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে নেওয়ার পথে দ্বিতীয় দফায়, এবং পরে হাসপাতালে পৌঁছার সময় তৃতীয় দফায় হামলার ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হয় ভুক্তভোগীর ছেলে ও আত্মীয়রা। তারা প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।
‎
‎ভুক্তভোগীরা ওই নারী জানিয়েছেন—২৮ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এসআই ইমাম তার ব্যবহৃত নাম্বার থেকে ফোন দিয়ে উল্টো তাদের গ্রেফতারের হুমকি দেন।
‎
‎সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ:-
‎ঘটনার সত্যতা জানতে ২৯ নভেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কয়েকজন সাংবাদিক থানায় গেলে এসআই ইমাম তাদের পরিচয় জানতে পেরে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। এসময় তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন এবং একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে সাংবাদিকরা ওসির সঙ্গে দেখা করতে চাইলে তাকে থানায় পাওয়া যায়নি এবং পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব দেননি।
‎
‎প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগী ওই নারী থানার ওসি ও এসআই ইমামের বিরুদ্ধে রোববার জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে সাংবাদিকদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং একজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাসহ অন্যান্য নানা অপরাধে অভিযুক্ত এসআই ইমামের বিরুদ্ধে সোমবার আইজিপি বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন টাইমস নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক আবু বকর সিদ্দিক।
‎
‎এদিকে অভিযোগ দায়ের পর রাতেই থানার ভারপ্রাপ্ত কমকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম তার সরকারি নাম্বার থেকে সাংবাদিককে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে সকল ঘটনায় ক্ষমা চেয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিউজ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ জানান।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর