গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ইনক্লুসিভ ও বেস্ট ইলেকশন হতে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন হবে উৎসবমুখর, ফ্রি, ফেয়ার এবং অংশগ্রহণমূলক।
তিনি বলেন, “খুব সুন্দর একটা ইলেকশন দেখতে পাবেন। দেশের জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হতো—ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবাই একসাথে ভোট দিতে যেতেন—তেমনি একটি নির্বাচনই আমরা দেখতে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, এটি হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ নির্বাচন।”
মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) সকাল ১১টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর মতবিরোধ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, “দলীয় রাজনীতি থাকলে মতবিরোধ থাকবেই। তবে আমরা এটাকে সিরিয়াসভাবে নিচ্ছি না। ঐক্যমত কমিশনের সঙ্গে নয় মাস ধরে বিভিন্ন দল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আলোচনায় অংশ নিয়েছে। আশা করছি, অচিরেই সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “ইতিমধ্যে বিএনপি ২৩৭টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, জামায়াতও প্রার্থী দিয়েছে। বড় বড় দলগুলো নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশে এখন নির্বাচনের জোয়ার বইছে।”
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে তিনি বলেন, “১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নাশকতার পরিকল্পনা করছে। তারা ইতোমধ্যে সাতটি বাসে আগুন দিয়েছে। একজনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে, যার বাড়ি গোপালগঞ্জে। এসবই নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।”
আগামী নির্বাচনের সময়সূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন হতে পারে। আশা করছি, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনটি হবে অত্যন্ত সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মতো এখানেও আশি শতাংশ পর্যন্ত ভোট কাস্ট হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইটি) রাজিব মাহমুদ, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শাহিনুল ইসলাম, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামাল হোসেন ও থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন মজুমদার এবং সঞ্চালনা করেন শিক্ষক মো. মোফাজ্জল হোসেন দুলাল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, ঠিকাদার মো. মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, সমাজসেবক ইসমাইল হোসেন চৌধুরী, প্রধান শিক্ষক মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন ভূঁইয়া, অভিভাবক প্রতিনিধি মো. রেজাউল করিম মিন্টু, শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান সুমাইয়া ও রকিবুল হাসানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।