কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকাসহ মোঃ আব্দুর রহিম মিয়াজী (৩৭) নামে বিএনপির এক যুবদলের নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত ওই নেতা উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক।
জানা গেছে, অভিযানের সূত্রপাত একটি গোপন সংবাদের মাধ্যমে। মঙ্গলবার গভীর রাতে, চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর চৌদ্দগ্রাম ক্যাম্পের আভিযানিক দল কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে আব্দুর রহিম মিয়াজীকে আটক করা হয়।
আটককৃত আব্দুর রহিম মিয়াজী কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি পশ্চিম পাড়ার মৃত আব্দুল কুদ্দুস মিয়াজীর ছোট ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন এবং এলাকায় পরিচিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, উপজেলার বিএনপিসহ দলটির সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতা মাদক ও চোরাচালানের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে প্রায় সময় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আটকের তথ্য গণমাধ্যমে উঠে আসে। অবশ্য এসব কর্মকান্ডের কারণে অনেকেরই দল থেকে বহিষ্কারও হয়েছেন।
পুলিশ বলছে- আটককৃত ব্যাক্তিকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে যে তার ঘরের স্টিল আলমারিতে বিশেষভাবে ২,৬৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট লুকিয়ে রাখা আছে। পরে তার দেখানো জায়গায় অভিযান চালিয়ে ২,৬৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ ২ লাখ ২১ হাজার ৬২০ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় গভীর রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মোঃ আব্দুর রহিম মিয়াজীকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা দায়ের শেষে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম রুখতে আমরা আরো কঠোর পদক্ষেপ নেব।
স্থানীয়রা জানান, যৌথ বাহিনীর সফল এ অভিযান এলাকার মানুষকে স্বস্তি দিয়েছে। সচেতন নাগরিকরা মাদক বিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।