নওগাঁর মহাদেবপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনার দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চাঁন্দাশ ইউনিয়নের চককন্দর্পপুর গ্রামের ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলীর বাড়ির উঠানে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মোহাম্মদ আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শহিদুল ইসলাম প্রামানিক, আব্দুস সালাম, আবুল কালাম, ডেইজি ও শামীমা আক্তার শিখাসহ একাধিক ভুক্তভোগী।
তারা অভিযোগ করেন, “দীর্ঘদিন ধরে আমরা যে জমি ভোগদখল করে আসছি, প্রতিপক্ষ জাল দলিল তৈরি করে তা অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। বাধা দিলে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১৪ অক্টোবর (মঙ্গলবার) দুপুরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে মোহাম্মদ আলীর স্ত্রী খাদিজা, ভাই জাকারিয়া ও আল আমিন, জাকারিয়ার স্ত্রী নাদিরা, আল আমিনের স্ত্রী লাভলী, আব্দুস সালামের স্ত্রী আসমা ও আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী হাবিবাসহ সাতজন গুরুতর আহত হন।
প্রথমে আহতদের মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাদের নওগাঁ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, যেখানে তারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ আলী বাদী হয়ে গত শনিবার (১৮ অক্টোবর) মহাদেবপুর থানায় একটি মামলা (নং–১২, তারিখ: ১৮/১০/২০২৫) দায়ের করেন। মামলায় চককন্দর্পপুর, রামরায়পুরসহ আশপাশের গ্রামের মোট ১৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন—চককন্দর্পপুর গ্রামের ফারুক (৩৭), আজিজার রহমান (৫৭), আয়নাল হক (৪৫), রামরায়পুর গ্রামের আবুল কালাম (৪০), শরিফুল ইসলাম (৩২), ফরহাদ (৩৮), সুলতান (২৬), জাহিদুল ইসলাম (৩০), রেজাউল ইসলাম (৪২), আজিজুল (৫০), সবুজ (২৫), সুজন (২৩), মাসুম (২০) ও রাসেল (২০)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হামলার সময় বিরোধপূর্ণ জমির প্রায় ৪০টি বাঁশ কেটে নিয়ে যায় আসামিরা, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। এছাড়া নারী সদস্যদের ওপর শ্লীলতাহানির চেষ্টা ও মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন রেজা বলেন, “ঘটনার বিষয়ে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ভুক্তভোগীরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।