নওগাঁর মান্দা উপজেলায় চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ পাখি বেগম (৩০) হত্যা মামলার প্রধান আসামী ও নিহতের দ্বিতীয় স্বামী তাইজুল ইসলামকে (২৫) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী শহর থেকে তাকে গ্রেফতার করে মান্দা থানা পুলিশের একটি দল। এই গ্রেফতারের ফলে মামলার তদন্তে এক বড় অগ্রগতি হলো বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোঃ আবু রায়হান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তাইজুল ইসলাম আত্মগোপনে চলে যান। প্রযুক্তির সাহায্য এবং বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে রাজশাহী শহরে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
পাখি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামকে আমাদের চৌকস অফিসার সাব-ইন্সপেক্টর ফজলু করিমের নেতৃত্বে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তার অবস্থান জানার জন্য আমাদের তদন্ত চলছিল। আজ শনিবার (৪ অক্টোবর) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে। এই গ্রেফতারের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন এবং জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করার কাজ আরও দ্রুত এগোবে।
নিহত পাখি বেগম ছিলেন মান্দা উপজেলার ভারশোঁ গ্রামের লবির উদ্দিনের মেয়ে এবং দুই সন্তানের জননী। তার প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর জীবিকার সন্ধানে তিনি ঢাকায় যান, যেখানে মান্দার পরানপুর মৎস্যজীবীপাড়ার তাইজুল ইসলামের (জিয়ারুল ইসলামের ছেলে) সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে তারা বিয়ে করেন।
বিচ্ছেদের পর হত্যাকাণ্ড: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে পাখি বেগম ও তাইজুল ইসলামের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের পর তাইজুলের ক্ষোভ বা অন্য কোনো সম্পর্কের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক ধারণা।
পরে গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে মান্দা উপজেলার হলুদঘর পশ্চিমপাড়া গ্রামের রাস্তার পাশ থেকে পাখি বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এসময় মরদেহের মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। আঘাতের ধরন দেখে পুলিশ শুরু থেকেই এটিকে সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে নিশ্চিত করে।
এদিকে পাখি বেগমের লাশ উদ্ধারের পর থেকেই তার সাবেক স্বামী তাইজুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছিলেন।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর প্রধান আসামী তাইজুল ইসলাম গ্রেফতার হওয়ায় মান্দা এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলাকার লোকজন এখন দ্রুত এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী (৫৫) বলেন, ঘটনাটা খুব ভয়ংকর ছিল। যুবতী মেয়েটার মুখমণ্ডল থেঁতলানো ছিল। এমন খুনিকে এতদিন বাইরে রাখা ঠিক না। পুলিশ তাকে ধরে ভালো কাজ করেছে। আমরা চাই, দ্রুত যেন এর বিচার হয় এবং পাখি হত্যার সব রহস্য যেন পরিষ্কার হয়।নৌকার মাথায় গৃহবধূ