নওগাঁর মান্দা উপজেলায় ফের সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের ঘটনা ঘটল। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাবকে কাজে লাগিয়ে একদল দুর্বৃত্ত গভীর রাতে তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের পাল পাড়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মনসা পূজার মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে। বুধবার (০১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়রা দ্রুত এর তীব্র প্রতিবাদ ও প্রতিকার দাবি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নারায়ণপুর গ্রামের পাল পাড়ার মনসা মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনা চলে আসছে। বুধবার গভীর রাতে সুযোগ বুঝে দুর্বৃত্ত চক্র মন্দিরে প্রবেশ করে প্রতিমাটি ভেঙে ফেলে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনাটি কোনো সাধারণ চুরি বা ভাঙচুর নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে পরিকল্পিত এবং এর উদ্দেশ্য হলো হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হেনে বিবাদ সৃষ্টি করা। এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা নষ্ট করার জন্যই এই ঘৃণ্য কাজটি করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পালপাড়া ও পার্শ্ববর্তী সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা প্রশাসনের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
এলাকার সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকেরা প্রশ্ন তুলেছেন—উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এলাকায় সক্রিয় নজরদারি রাখত, তবে এমন ঘটনা ঘটানো দুষ্কৃতকারীদের পক্ষে সম্ভব হতো না। অন্যদিকে প্রতিমা ভাঙচুরের মতো একটি গুরুতর সাম্প্রদায়িক উসকানির বিষয়ে মান্দা উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা নিয়ে এখন বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আক্তার জাহান সাথীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত আশ্চর্যজনকভাবে ঘটনার বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে সাংবাদিকদের জানান এবং বিষয়টি এড়িয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি এবং উপজেলা প্রশাসনের প্রধান। তাঁর আওতাধীন এলাকায় এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটার পরও তিনি ‘জানেন না’ বলায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, ইউএনও’র এই দায়িত্ব এড়ানোর মনোভাব প্রমাণ করে যে, তিনি স্থানীয় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় যথেষ্ট নজর দেননি। এতে স্থানীয় সনাতন ধর্মীয় নেতারা এবং সুশীল সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট বক্তব্য বা পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি।