1. admin@timesnews24.live : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে পরস্পরের যোগসাজশে প্যানেল চেয়ারম্যানের স্ত্রী-আত্মীয়ের নামে ভিজিডি ‎

স্টাফ রিপোর্টার (জয়পুরহাট)
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৩১ বার পঠিত

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে ভালনারেবল উইমেন বেনিফিট ভিডব্লিউবি (পূর্বের নাম ভিজিডি) কর্মসূচির আওতায় নিজের স্ত্রীর নামসহ অন্তত ২ হালি আত্মীয়ের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও আত্মীদের বাইরে প্রায় প্রতিটি সুবিধাভোগী মহিলার কাছ থেকে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিময় নিয়েছেন অভিযুক্ত ওই ইউপি সদস্য। এমনকি ভিডাব্লিউবি চুড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত হলে উদ্দোক্তার মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রতিটি সুবিধাভোগীর কাছ থেকে ১ শত টাকা করে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা আদায় করেছেন তিনি। পরে তা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম ও ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ভাগবাটোয়ারা করে নেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
‎
‎এদিকে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির দুস্থ নারীদের তালিকায় ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যের স্ত্রী এবং ২ হালি আত্মীয়ের নাম দেখে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। চলছে নানা আলোচনা সমালোচনা।
‎
‎উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় অসহায় দুস্থ নারীদের প্রতি মাসে বিনা মূল্যে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে অনলাইনে আবেদন চাওয়া হয়। এরপর ইউপি চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ট্যাগ অফিসার ও ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সরেজমিন যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হয়। উপজেলার বড়তারা ইউনিয়নে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভিডব্লিউবি কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নের প্রায় ১৮শত জন নারী আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে ৪৪০ জনকে চূড়ান্ত করে যাচাই-বাছাই কমিটি।
‎
‎চলতি বছরের ৩০ জুন ভিডব্লিউবি নারী বাছাই কমিটির সভাপতি হিসেবে ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম, সদস্যসচিব হিসেবে ইউনিয়নের সচিব, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও সর্বশেষ ইউএনও সই করে পুরো ইউনিয়নের ৪৪০ জনের চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। এর মধ্যে ৫নং ওয়ার্ডে ৫৩ জন। তবে এই ওয়ার্ডের তালিকায় প্রকৃত দুস্থ নারীদের বাদ দিয়ে ৩নং প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সাথে যোগসাজশে নিজের স্ত্রী ও ২ হালি আত্মীয়ের নাম তালিকাভুক্ত করার অভিযোগ ওঠে। যাদের মধ্যে অধিকাংশই দুস্থ নয়। কারও কারও আবার ৬-৮ বিঘা জমি, পাকা বাড়ি, একাধিক পুকুর, একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
‎
‎এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম টাইমস নিউজকে বলেন, আমাদের ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যানদের কোন হাত ছিলো না। এটা সমস্ত উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করেই উনারা নিয়েছেন। সুবিধাভোগী মহিলাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান- এটা তো টাকা আমরা নেয়নি। এটা সমস্ত মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও ইউএনও স্যার তদারকি করেছেন। আমাদের কোন হাত ছিলে না।
‎
‎তবে অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লায়লা নাসরিন টাইমস নিউজকে জানান- আমাকে ও ইউএনও স্যারের whatsapp নাম্বারে কয়েকটি নামের তালিকা পাঠানো হয়েছিলো। আমি তখন কয়েকটি নাম বাদ দিয়েছি। আমি মেম্বারকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম যে আপনি এতো বড় সাহস কি করে পান! আরো নাম থাকতে পারে, আপনি নাম দিয়ে দেন, আমি কেটে দেবো। আমরা সকল রাজনৈতিক নেতাদের দাওয়াত করি, চিঠি দেয় এবং ফোন করি। এতে সবাই উপস্থিত হন। আমাদের ভুল হইছে, হতেই পারে। আমরা তো সব মানুষকে চিনি না। সবাই সঠিক তথ্য দেয় না, মিথ্যা কথা বলে। এখন যারা পাইনি তারা অভিযোগ দিলে আমরা সংশোধন করে দেবো।
‎
‎এদিকে তালিকা ঘেটে দেখা যায়, তালিকায় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের ভাবি, চাচি, মামি, খালাসহ ২ হালি আত্মীয়ের নাম তালিকায় ঢুকিয়েছে, যাদের অধিকাংশই সাবলম্বী। তালিকার ২১২নং মাফুজা খাতুন ও ২৩০নং সেলিনা খাতুন এই দু’জন ইউপি সদস্য শফিকুলের আপন বড় ভাইয়ের দুই বউ (সতীন), ২১০নং মোছাঃ খোতেজা তার মামি, ২১৪নং রিমা বেগম তার চাচি, ২১৬নং আলেয়া বেগম তার চাচি, ২১৭নং আমেনা বেগমও তার চাচি, ১৮২নং শেফালী বেগম তার খালা। বাকি ৪৬ জন মহিলার কাছ থেকেও বিভিন্ন জনের মাধ্যমে ২ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছে বলেও অভিযোগ আছে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলামের মাধ্যমে।
‎
‎এনিয়ে বাঘাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর নুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শফিকুল মেম্বার একজন দুর্নীতিবাজ লোক। গরীব মানুষজনকে এসব সরকারি সুযোগ সুবিধা না দিয়ে নিজের আত্মীয় স্বজনকে দিচ্ছে। সে টাকা ছাড়া কারও কোনো কাজ করে দেয় না। এমনকি টাকা খেয়ে তিনি ওয়ারিশান থেকেও স্বজনের নাম বাদ দেয়। আমরা তার বিচার চাই।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উপকারভোগী বলেন, আমার কার্ড করে দেওয়ার জন্য আমার কাছে তিন হাজার টাকা চায়। না দিতে চাইলে তিনি বলেন, তুমি না দিলে আরেকজন দিবে, তাকে করে দিবো। পরে চাল দেওয়ার দিন দেখি সব তারই আত্মীয় স্বজন। আবার বড়লোকদেরও কার্ড করে দিয়েছে।
‎
‎মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন, প্রতিবার চাল দেওয়ার দিন বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদে চাল ক্রয়ের অভিযোগ আছে। পরে স্যার আমাদের ব্যবস্থা নিতে পাঠালে আমাদের দেখে চাল ক্রেতারা পালিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শফিকুল মেম্বারের বড় ভাই শাহিনুর ইসলাম তার ভাইয়ের ক্ষমতা দেখিয়ে প্রকাশ্যে পরিষদের সামনে চাল ক্রয় করে।
‎
‎অভিযেগের বিষয়ে জানতে বড়তারা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
‎
‎এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী তালিকা করা হয়েছে। কোথাও এর ব্যত্যয় হয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর