নওগাঁর মহাদেবপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে এবং ওই দিন রাতে একটি স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে
তবে স্থানীয় সচেতন মহল এই ধরনের অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। উপজেলার হাতুর ইউনিয়নের সমাসপুর গ্রামের বাসিন্দা আবু সাঈদ, যিনি সম্পর্কে ওই শিক্ষার্থীর বাবার বন্ধু এবং তার সঙ্গে বাঁশের কাজ করেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকালে ওই ছাত্রী তার বাড়িতে একা ছিল। এই সুযোগে আবু সাঈদ তাকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলে সাঈদ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় ।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার রাতে ফ্যাসিবাদ সরকারের স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতা ও সালিশকারীরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠকে বসে। এই সালিশে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবক ও ডেন্টাল চিকিৎসক সাইকুল, সাঈদের ভাই আব্দুল রহিম, মাতবর হাসান, আনোয়ার এবং মহিলা নেত্রী সহিদা। সালিশে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা না করে সাঈদকে শুধুমাত্র তার বড় ভাই আব্দুল রহিম একটি থাপ্পড় মেরে বিচার শেষ করে দেন। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও আইনি পদক্ষেপের দাবি এই ধরনের গুরুতর অপরাধের বিচার শুধুমাত্র একটি থাপ্পড়ে সীমাবদ্ধ করায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করে, ধর্ষণের চেষ্টার মতো জঘন্য অপরাধ করে একজন ব্যক্তি কীভাবে পার পেয়ে যেতে পারে? তারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের অপরাধীকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা উচিত এবং আইন অনুযায়ী তার বিচার হওয়া প্রয়োজন। টাকার বিনিময়ে বা স্থানীয় প্রভাবে এই ধরনের অপরাধীদের ছাড় দেওয়া উচিত নয় বলেও তারা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর রেজা জানান, এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো অভিযোগ তাদের কাছে আসেনি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, এই ধরনের অপরাধকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং অপরাধীকে আইনের কাছে সোপর্দ করা হবে।