ভারতের গুজরাটের বোটাড জেলায় ১৭ বছরের মুসলিম কিশোর আরিয়ান মাখিয়ালাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে টানা নয়দিন ধরে গুরুতর শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত মাসে স্থানীয় পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন তার পরিবার। জানা যায়, এতিম কিশোর মাখিয়ালা একজন দিনমজুর এবং বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তার দাদা-দাদি ও দুই বোনের একমাত্র উপার্জনকারী সে। তাকে গত ১৯ আগস্ট একটি স্থানীয় মেলা থেকে চুরির সন্দেহে পুলিশ তুলে নিয়ে যায় বলে জানা গেছে। এরপর দুই দিন ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে তার পরিবার বোটাড থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করতে গেলে জানতে পারেন যে, তাকে আটক করা হয়েছে।
তার চাচা সোহিলভাইয়ের মতে, মাখিয়ালাকে কোনো ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির না করে টানা ৯ দিন ধরে পুলিশ হেফাজতে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, যা আইনি প্রোটোকলের লঙ্ঘন। পরিবারের অভিযোগ, পুলিশ মাখিয়ালাকে বারবার মারধর করে গুরুতর আহত করেছে এবং যৌন নির্যাতন করেছে।
এ ঘটনায় তার দাদা পুলিশের ওপর হস্তক্ষেপ করলে তাকেও মারধর করে ৬ দিন আটক রাখা হয়। পুলিশ পরে দাবি করে, মাখিয়ালাকে সাপ বা পোকামাকড়ের কামড়ের কারণে ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বোটাড সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তবে, তার পরিবার তাকে ফুলে যাওয়া শরীর নিয়ে গুরুতর অবস্থায় দেখতে পায়, যার ফলে তাকে আহমেদাবাদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এতে মেডিকেল রিপোর্টে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন এবং কিডনি বিকৃতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবার আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মাখিয়ালার দুই বোনের বিয়ের জন্য জমানো ৫০,০০০ রুপি জব্দ করেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে বোটাড পুলিশ আটক ও নির্যাতনের সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এতে গুজরাট-ভিত্তিক মাইনরিটি কোঅর্ডিনেশন কমিটি (এমসিসি) এই মামলাটি হাতে নিয়েছে এবং জড়িত কর্মকর্তাদের অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবিতে রাজ্যের পুলিশের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছেন।
এমসিসি-র মুজাহিদ নাফিস স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে থানা থেকে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটি পুলিশি দায়মুক্তির অবসান এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছে, পাশাপাশি ভারতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতার বৃহত্তর বিষয়টিও তুলে ধরেছে। সূত্রঃ মুসলিম মিরর