কুমিল্লার সদর দক্ষিণে বৃদ্ধা নারীকে মারধর করে জমি দখল ও বালু ভরাটের অভিযোগ উঠেছে ভাতিজার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিউজ প্রকাশের পর টাইমস নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশককে দেখে নেওয়ার পাশাপাশি মামলার হুমকি দিয়েছেন অভিযুক্ত মেসবাহ উদ্দিন খন্দকার নামে এক ব্যাক্তি। জানা যায়, অভিযুক্ত মেসবাহ উদ্দিন খন্দকার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানাধীন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩ নং ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকার বাসিন্দা ও অ্যাংলো ইস্টার্নের মেরিন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। ভুক্তোভোগী ৭৪ বছরের বয়োবৃদ্ধ নাজমা বেগম জানান, আমার পৈত্রিক জমিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের সহায়তায় জোর করে দখল করে বালু ভর্তি করেছে মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার। আমি বাঁধা দেওয়ায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
আর ভুক্তভোগী নাজমা বেগমের একমাত্র ছেলে অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন জসিম আহমেদ মজুমদার জানান- গত কাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদের দখলীয় জমিতে কয়েকজন সন্ত্রাসীদের নিয়ে গেইট ভেঙ্গে মেজবাহ উদ্দিন জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং বেশ কিছু ফলের গাছ কেটে বালু দিয়ে ভরাটের কাজ করছিলো। এ ঘটনায় আমার মা নাজমা বেগম তাদেরকে বাঁধা দিতে গেলে মেজবাহ উদ্দিন তাকে ধাক্কা ধাক্কি করে ফেলে দেয়। এরপর তারা তার ওপরেই বালু ভরাট করতে থাকে। এ ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মেজবাহ উদ্দিনকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়ে চলে যাওয়ার পর আবারও কাজ করতে থাকেন বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে এ ঘটনায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ২৩নং ওয়ার্ডের চাঙ্গিনী এলাকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে নিউজ সংগ্রহে ঘটনাস্থলে তিন সাংবাদিক গেলে ভিডিও ধারণের সময় প্রথমে মেজবাহ উদ্দিন খন্দকারের লোকজন বাঁধা দেন। পরে নিউজ নিজের পক্ষে নিতে অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে প্রভাব বিস্তার করতে চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় আজ শুক্রবার টাইমস নিউজ, দৈনিক সকাল ও ই-সময়ে নিউজ প্রকাশিত হয়। আর এরই জের ধরে অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন মজুমদার শুক্রবার বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দিয়ে সাংবাদিকদেরকে কটাক্ষ করে বাজে মন্তব্য করেন এবং সাংবাদিকদেরকে দেখে নেওয়ার পাশাপাশি মামলার হুমকি দেন তিনি।
উল্লেখ্য যে, অভিযোগ পেয়ে গতকাল দুপুরে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। পরে তারা আবারো কাজ শুরু করলে ঘটনাস্থলে নিউজ সংগ্রহে সাংবাদিকরা যায়। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্দেশনা কে অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাংবাদিরা জানতে চাইলে অভিযুক্ত মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার বলেন- পুলিশে টাকা খেয়ে এমন নির্দেশ দিলে কেন মানবো বলে মন্তব্য করেছিলেন। এমন মন্তব্যে তার কাছে কোন প্রমাণ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।