কুমিল্লার তিতাসের নিখোঁজের ৪দিন পর ট্রাক্টর চালকের বিচ্ছিন্ন হাত উদ্ধারের পর বেড়িয়ে এলো হত্যার লোমহর্ষক ঘটনা। প্রেমিককে হত্যার দুই দিন পর গ্রামের মসজিদে মিলাদ ও দোয়া পড়ানোর পাশাপাশি ঘরে অর্ধশতাধিক নারীদের দিয়ে কুরআন তালিমের আয়োজন করে খিচুড়ি বিতরণ করেন ঘাতক প্রেমিকা স্মৃতি আক্তার।
জানা যায়, তিতাসের শাহবৃদ্ধি গ্রামের নজরুল ইসলাম ভূঁইয়ার সাথে একই গ্রামের স্মৃতি আক্তারের সাথে ভালোবাসা ছিলো যৌবন বয়সেই। কিন্তু নজরুলের পরিবার সে প্রেমভালবাসা মেনে না নেয়ায়-স্মৃতি আক্তারকে বিয়ে দেয়া হয় মজিদপুর গ্রামের মধ্যপাড়া নজুমিয়ার ছেলে সিএনজি চালক মোহাম্মদ হোসেনের সাথে। আর নজরুলও বিয়ে করেন অন্যত্র। এতে উভয়ের সংসারেই দু’টি করে সন্তানও হয়। কিন্তু প্রেম থেকে পরকিয়া থেমে থাকেনি স্মৃতি ও নজরুলের মধ্যে। সুযোগ পেলে মাঝে মধ্যেই স্মৃতি আক্তারের সাথে সময় কাটাতেন প্রেমিক।
বিষয়টি সহ্য করতে না পেরে পরিকল্পনা করেই স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে দিয়ে গত ৬ আগস্ট বুধবার রাতে ফোনে ডেকে নেয় নজরুলকে। এরপর দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোহাম্মদ হোসেন হাতের কুড়াল দিয়ে পিছনে সজোরে কুপ মারলে চিৎকার দিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নজরুল। তৎক্ষনাৎ বিষাক্ত প্রেমিকা স্মৃতি তার স্বামীর সাথে তাল মিলিয়ে নজরুলের মুখ চেপে ধরেন এবং কুড়াল মাথা থেকে খুলে উপর্যুপরি কু*পিয়ে নজরুলকে হ*ত্যা করে। পরে ছুরি দিয়ে দু’টি হাত ও দু’টি পা কেটে আলাদা করে দেয় এবং মাথা দেহ আলাদা করে চারটি বাজারের ব্যাগে দুটি করে ইট ও পানির বোতলসহ ভরে বাড়ীর উত্তর পাশে তিতাস নদীতে ফেলে দেয়।
তার আগে ছেলের সন্ধান না পাওযায় নিহতের বাবা মোঃ হানিফ ভূঁইয়া গত ৮ আগস্ট থানায় জিডি করেন। পর পুলিশ নজরুলের মোবাইলের কললিস্টিের সূত্র ধরে আবিস্কার করেন প্রেমিকা স্মৃতি আক্তারকে। এরপর ১০ আগস্ট ভোরে স্মৃতি আক্তারের স্বামী মোহাম্মদ হোসেন ও স্মৃতিকে আটকের পর তারা হত্যার দায় স্বীকার করে ঘটনার বর্ণনা দেন। বর্ণনা অনুযায়ী রবিবার দুপুরে নারায়নগঞ্জ থেকে আগত ডুবুরীর সহায়তায় নদী থেকে একটি ব্যাগে ইট ও পানির বোতলসহ নিহত নজরুলের বিচ্ছিনরত দুটি হাত উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে দেহের আর কোন অংশ খুঁজে না পাওয়ায় পুলিশ অভিযান বন্ধ করে চলে যায়। তবে স্থানীয়দের ও ডুবুরির দাবি, পুলিশ আসামীদের নিয়ে সহযোগিতা করলে হয়তো আরো কিছু অংশ পাওয়া যেতো।