কুমিল্লার দাউদকান্দির গৌরীপুরে হৃদয়বিদারক এক ঘটনা ঘটেছে। ছেলেকে অপহরণের পর তার শরীরে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে এক পিতার মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১৩ জুলাই) রাত সাড়ে নয়টার দিকে গৌরীপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া (৭০) উপজেলার মারুকা ইউনিয়নের চক্রতলা গ্রামের বাসিন্দা ও তাজু মিয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সুরুজ মিয়ার ছেলে পাবেল রবিবার দুপুরে গৌরীপুর বাজারের ঈদগাহ মাঠে কবুতর কিনতে যান। এ সময় সেখান থেকে একদল ব্যক্তি তাকে অপহরণ করে পশ্চিম বাজার এলাকার একটি বাসায় নিয়ে যায়। পরে তারা পাবেলের পরিবারের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫০ হাজার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অপহরণকারীরা পাবেলের উপর অমানবিক নির্যাতন চালায়। বাধ্য হয়ে পরিবার বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করলে রাত সাড়ে আটটার দিকে পাবেলকে মুক্তি দেয় চক্রটি। ছেলে বাড়ি ফেরার পর তার গায়ে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সুরুজ মিয়া। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পাবেলের ফুফাতো ভাই কাইয়ুম হাসান জানান, পাবেল গৌরীপুর বাজারে কবুতর কিনতে গিয়েছিল। প্রথমে দুইজন এসে বলে তুই টাকা নিছস, ফেরত দিচ্ছিস না কেন, তারপর চড়-থাপ্পড় মারতে থাকে। কিছুক্ষণ পর আরও ৫-৬ জন এসে বলে আপনারা কি হইছে, সাইটে আসেন এই বলে ডেকে নিয়ে চোখ বেঁধে ফেলে এবং একটি বাসায় আটকে রেখে নির্যাতন চালায়। পরে টাকা দিয়ে ছাড়ানোর পর পাবেলের শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখে আমার মামা (পাবেলের বাবা) স্ট্রোক করেন। হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার জানান, তিনি মারা গেছেন। পাবেলের ভাই বা মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা বলেন, পাবেলের বাবাকে মাত্র দাফন করা হয়েছে। এখন কথা বলার মতো কারও মানসিক অবস্থা নেই। সবাই কান্নাকাটি করছেন। এ বিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, ঘটনাটি কেউ আমাদের জানায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখতে পেয়ে আমরা ভিকটিমের বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।