জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে অন্যায়ভাবে শতবর্ষী একাধীক গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় টাইমস নিউজে নিউজ প্রকাশের পর তা ব্যবস্থা নিতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা প্রশাসন। গত সোমবার (৭ জুলাই) ক্ষেতলাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাত এর স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপন এ কমিটি করা হয়। এতে উপজেলা কৃষি অফিসারকে আহ্বায়ক, উপজেলা প্রকৌশলীকে সদস্য সচিব ও উপজেলা বন কর্মকর্তাকে সদস্য করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসের অভ্যান্তরীন বিভিন্ন প্রজাতির ১২টি মরা ও ঝরে পড়া গাছ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকায় নিলামে বিক্রয় করা হয়। কিন্তু স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ ও গত সোমবার (৬ জুলাই) টাইমস নিউজে নিউজ প্রকাশিত হয় যে, টেন্ডারের নির্ধারিত ১২টি গাছের থেকে অতিরিক্ত একাধীক শতবর্ষী গাছ কাটার। আর এ ঘটনায় তা সত্যতা যাচাইয়ের পেক্ষিতে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। যা আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করা হয় এই প্রজ্ঞাপনে।
টেন্ডার অনুযায়ী পরিষদের অভ্যান্তরে ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া ও ঝুকিপূণ ১২টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের মধ্যে বকাইন ১টি, মেহগনী ২টি, জাম ১টি, রেইন্ট্রি ৩টি, অজুন ২টি, আম ১টি, শিশু ১টি, ইউক্যালিপ্টাস ১টি গাছ কাটার কথা থাকলেও মেহগনী ২টির জায়গার ৫টি, জাম ১টির জায়গায় ২টি এবং ১টি কাঠাল গাছ কাটার কথা না থাকলেও তা কেটে নেন ওই ব্যবসায়ী। 
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝড়ে ভেঙ্গে পড়া, ঝুকিপূণ ১২টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ বিক্রয় হবে বলে খোলা ডাকের আহব্বান করা হয়। এখানে পরিপত্রে যে গাছ কাটার কথা আছে, তা না করে অর্থের লোভে পড়ে অতিরিক্ত গাছ কেটে নেন। এতে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায়। তারা বলেন , প্রশাসনের চোখের সামনে এমন গাছ কিভাবে কাটা হয়, তারা কি ঘুমিয়ে থাকে? ঝড়ে পড়া গাছ কাটার নামে ভালো গাছ কেটেছে, এর বিচার হওয়া দরকার। এক একটা গাছ প্রায় শতবর্ষী ছিল। উপজেলা পরিষদকে শীতল রাখতো এই গাছগুলোই।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ী উজ্জল এর কাছ জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, আমি উচ্চ মুল্যে গাছগুলো নিয়েছি। আমার লস হচ্ছে, বিধায় গাছগুলো কেটেছি। গাছ কাটার ঘটনা সত্য, তবে আমি এই গাছ কেটে লস পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। 
আর উপজেলা সামাজিক বনায়ন কর্মকর্তা মতিয়র রহমান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, ঝড়ে পড়া গাছ টেন্ডারের জন্য দাম নির্ধারণ করতে বলায় আমরা শুধু দাম নির্ধারণ করেছি। কোন ভালো গাছের দাম নির্ধারন করা হয়নি। যদি অতিরিক্ত গাছ কেটে থাকে তাহলে তারা অন্যায় করেছে।
অন্যদিকে অন্যায়ভাবে অতিরিক্ত শতবর্ষী একাধীক গাছ কাটার ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসিফ আল জিনাতকে ফোন দিয়ে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে তা ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন টাইমস নিউজকে। এরই পেক্ষিতে তিনি গতকাল সোমবার ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেন। যা আগামী ৫ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।