1. admin@timesnews24.live : admin :
মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫ এসি স্লিপার বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, জরিমানা ৯৫ হাজার টাকা ৩২ বছর মানুষের হাতে খবর তুলে দিয়েছেন, আজ নিজেই খবরের শিরোনাম নিতাই সাহা গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় চৌদ্দগ্রামে জমি দখল, বাড়িঘরে হামলা ও ভাংচুরের প্রতিবাদে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন বুড়িচংয়ে বৃদ্ধাকে নৃশংস হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিচারের দাবি কুমিল্লায় বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিভিল সার্জনের মতবিনিময় নওগাঁয় বৃদ্ধা হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দিল জেলা পুলিশ, ছোট ভাই-ভাবিসহ গ্রেপ্তার ৫ সাংবাদিক আলিফ ফকির হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লায় মানববন্ধন চৌদ্দগ্রামে খেঁয়াইশ দারিদ্র্য বিমোচন সংগঠনের উদ্যোগে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত লটারির আড়ালে ‘বদলি-বাণিজ্যের’ অভিযোগ: জাগৃকের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের পদায়নে ক্ষোভ

দাউদকান্দিতে ডিবি পরিচয়ে প্রকাশ্যে অপহরণ, ৫ বছরেও উদ্ধার হয়নি যুবদল নেতা সাইফুল!

মোঃ আবু বকর সিদ্দিক
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৫ জুলাই, ২০২৫
  • ৩৬৬ বার পঠিত

‎কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ডিবি পরিচয়ে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতিকে প্রকাশ্যে অপহরণের প্রায় পাঁচ বছর হতে চললেও এখন পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এমনকি এ ঘটনায় ৫ বছর আগে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত এফআইআর এর মুখ দেখিনি মামলাটি। এ পর্যন্ত মামলাটি তদন্ত হয়েছে অন্তত ৬ বার। অভিযোগ উঠেছে মামলার তদন্তকারী সিআইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভিকটিমকে উদ্ধার করে দিবে মর্মে মোটা অংকের ঘুষের দাবি করেন ওই কর্মকর্তা বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীর পরিবার। এ নিয়ে সাম্প্রতি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল আদালতে গুমের একটি অভিযোগ করেছেন বলে টাইমস নিউজকে নিশ্চিত করেছেন পরিবারটি।

‎ভিকটিমের পরিবার টাইমস নিউজকে জানান- তৎকালীন দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি (বর্তমানে গ্রেপ্তার রয়েছে) রফিকুল ইসলাম এর নির্দেশে অপহরণটি সংগঠিত হয়। ঘটনার আগে স্থানীয় শাহ জালাল নামে পুলিশের এক সোর্সের মাধ্যমে ওসি ফোন দিয়ে ভিকটিমকে থানায় আসতে বলেন। এতে ভিকটিম সাইফুল ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (২৪/০৯/২০২০) বিকেল ৩টার সময় থানায় গিয়ে ওসির সাথে কথা বলার কথা জানান। সব কিছু ঠিক থাকলেও ঘটনার দিন আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের সময় দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর টু মতলব সড়কের মাথায় পিয়াল টেলিকম নামক দোকান হইতে জায়েদ আহমেদ জুলহাস, মোরশেদ, বাবুল, ছালাউদ্দিন, আফজাল, হাছান মিয়াসহ আরোও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হাতে ওয়াকিটকি, পিস্তল ও হ্যান্ডকাপ নিয়ে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে আটক করে কালো মাইক্রোবাসে তুলে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে যায়।

খবর পেয়ে ভিকটিম সাইফুলের ভাই জহিরুল ইসলাম প্রথমে থানায় যান এবং ওসি রফিকুল ইসলামের সাথে কথা বলেন। ভিকটিমকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি ওই দিন তার সাথে অত্যান্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং গালিগালাজ করেন তার সাথে। পরে নানা ধরণের অনুরোধের পর ওসি তাকে ভিকটিমের বিষয়ে একের পর এক ভুল তথ্য দিতে থাকেন এবং শান্ত থাকতে বলেন। পরে এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করতে চাইলে ওই ওসি তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে থানা থেকে পাঠিয়ে দেন। এতে ভিকটিমের পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করলে থানা পুলিশ ভিকটিমের ভাই জহিরুল ইসলামকে থানায় ডেকে পাঠান এবং জিডি নেওয়ার কথা জানান ওসি। এতে ভিকটিমের ভাই জহিরুল ইসলাম বাদী হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে জিডি করতে চাইলে ওসি তা গ্রহণ না করে অজ্ঞাত ব্যাক্তিদের নামে তিনি নামমাত্র জিডি গ্রহণ করেন। যাহার জিডি নং- ১২৫৮, তারিখ- ২৫/০৯/২০২০ইং।

‎ভিকটিমের ভাই জহিরুল ইসলামের দাবি- অপহরণের ঘটনায় স্থানীয় আওয়ামীলীগের সাবেক উপজেলার চেয়ারম্যান সুমন, থানার তৎকালীন ওসি রফিকুল ইসলাম (জুলাই-আগষ্টের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত), তৎকালিন গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে ফেনী ডিবিতে), ফাঁড়ির তৎকালিন এসআই তপন বকসি, স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতা ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন এ অপহরণের ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিলো। এদিকে ঘটনার পর তৃতীয় একটি পক্ষ ভিকটিমকে ফিরিয়ে দিবেন বলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এতে ভিকটিমের পরিবার তাদের চাহিদা মাফিক কয়েক লক্ষ টাকা মুক্তিপণও দেন। কিন্তু তারা ভিকটিমকে আর ফিরিয়ে দেননি।

‎মামলার নথি বলছে- থানা পুলিশের সহায়তা না পাওয়ায় ভিকটিমের পরিবার ঘটনার দুই সপ্তাহ পরে অর্থাৎ ০৭/১০/২০২০ইং তারিখে আদালতে হাজির হয়ে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে অপহরণের একটি মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত তা আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। সে সময়ের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মোবারক হোসেন খান মামলাটি ব্যাপক অনুসন্ধানের সময় প্রার্থনা করে আদালতকে ০৭/১২/২০২০ইং তারিখে প্রতিবেদন জমা দেন। আদালত তা মঞ্জুর করলে ২য় দফায় সেই সংস্থার ইন্সপেক্টর তৌহিদুল ইসলাম তদন্তের সুযোগ পাই। এতে তিনি ঘটনা সত্য মর্মে মামলাটি এফআইআরের জন্য ১১/০৩/২০২১ইং তারিখে আদেশের প্রার্থনা করেন আদালতের।

‎এতে মামলার আসামিরা নারাজী দাখিল করলে আদালত ৩য় দফায় থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে ফাঁড়ির তৎকালিন আইসি ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম (বর্তমানে ফেনী ডিবিতে) তদন্তের দায়িত্ব পান। এতে অপহরণের ঘটনা সত্য মর্মে তিনি ১২/০৮/২০২১ইং তারিখে আদালতে প্রতিবেদন জমা দিলেও সেখানে বিস্তারিত কোন কিছু তুলে ধরেননি তিনি। ফলে ৪র্থ বারের মতো আদালত জেলা গোয়েন্দা সংস্থা-কে (ডিবি) মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে দায়িত্ব পান তৎকালিন ডিবির এসআই সত্যজিৎ বড়ুয়া। তিনি অপহরণের ঘটনা সত্য মর্মে মামলাটি এফআইআরের জন্য ১৫/০২/২০২২ইং তারিখে প্রতিবেদন জমা দেন আদালতে।

‎এতে আসামিরা নারাজী দিলে আদালত আবারো ৫ম বারের মতো মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এতে তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালিন সিআইডির ইন্সপেক্টর আশরাফুল ইসলাম। অপহরণের ঘটনাটি সত্য মর্মে মামলাটি এফআইআরের জন্য তিনি ৩১/০৭/২০২২ইং তারিখে প্রতিবেদন জমা দেন আদালতকে। তাতেও আদালত ৬ষ্ঠ বারের মতো অধিকতর তদন্তের জন্য  আবারো সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এতে দায়িত্ব পান সিআইডির এসআই গোলাম আজম। অপহরণের ঘটনা সত্য মর্মে তিনি ১৯/০৫/২০২৫ইং তারিখে প্রতিবেদন জমা দিলেও সেখানে তিনি আসামী সনাক্ত হয়নি মর্মে অভিযুক্ত আসামীদেরকে এই মামলা থেকে অব্যাহতির কথা উল্লেখ করেন।

‎এ বিষয়ে ভিকটিমের পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আনোয়ারুল আজিম টাইমস নিউজকে জানান- ভিকটিম সাইফুল ইসলামকে অপহরণের ঘটনায় সকল তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনা সত্য মর্মে আদালতকে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন এবং মামলাটি এফআইআরের আদেশের জন্য প্রার্থনা করেছেন। শুধুমাত্র সিআইডির একজন অসৎ তদন্ত কর্মকর্তা তার চাহিদা মাফিক উপঢোকনের টাকা না দেওয়ায় রাগান্বিত হইয়া এবং অসৎ উপায়ে আসামীদের থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণীতভাবে ও মিথ্যা বানোয়াট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আমরা ন্যায় বিচারের জন্য আদালতের ওপর ভরসা রাখতে চাই। আশা করি আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে মামলাটি এফআইআরের নির্দেশ দিবেন।

অভিযোগের বিষয়ে টাইমস নিউজের সঙ্গে কথা হয় মামলার ৩য় তম আইও ও তৎকালিন গৌরিপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। এতে তিনি জানান- ঘটনাগুলো অনেক আগের। তাছাড়া আমার জানা মতে আমি কোন অন্যায় কাজ করিনি। উল্লেখ যে, এ ঘটনার পর তিনি গৌরিপুর পুলিশ ফাঁড়ির আইসি থেকে জেলার পার্শ্ববর্তী তিতাস থানার ওসি হিসেবে পদায়ন হয়েছিলেন। ৫ আগষ্টের পর তিনি ফেনী জেলা গোয়েন্দা সংস্থতে (ডিবি) বদলি হন।

‎অন্যদিকে টাইমস নিউজের সাথে কথা হয় মামলার ৬ষ্ঠ তম সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা গোলাম আজমের সাথে। এতে তিনি অভিযোগের বিষয়ে টাইমস নিউজকে জানান, সবাই যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তিনিও সেই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আর ভিকটিমকে উদ্ধার করে দিবে মর্মে মোটা অংকের ঘুষ দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- এটা তো আমি জানি না।

Facebook Comments Box
এই ক্যাটাগরির আরও খবর